উল্লাপাড়ার হাটে নতুন পাটের জমজমাট বেচাকেনা, ভালো দামে খুশি চাষিরা
উল্লাপাড়ার হাটে নতুন পাটের জমজমাট বেচাকেনা, ভালো দামে খুশি চাষিরা
মণপ্রতি ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি; গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা কৃষকদেরসংবাদ:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চলতি মৌসুমের নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতেই পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। গত বছরের তুলনায় দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এবার লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।শনিবার (১ আগস্ট) ও আগের দিন উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কৃষকগঞ্জ ও বোয়ালিয়া পাটের হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ দেশি পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়, তোষা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায় এবং কেনাফ ও মেস্তা পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকায়।সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, সরিষা কাটার পর তিন বিঘা জমিতে দেশি ও তোষা পাটের আবাদ করেছিলেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।কৃষকগঞ্জ হাটে আসা পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, গত বছর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন। তাই এবার কম জমিতে পাট চাষ করেন। তবে মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় সেই হতাশা কেটে গেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরও কয়েকজন কৃষক।স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান জানান, উল্লাপাড়ার হাট থেকে কেনা পাট ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হচ্ছে। এসব অঞ্চলে চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও পাটের দাম ভালো রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।তিনি আরও জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশি পাটের দাম ছিল মণপ্রতি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং তোষা পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। কেনাফ ও মেস্তা পাটের দামও এবার গত বছরের তুলনায় মণপ্রতি প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি।উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এক হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে এক হাজার ৬৭১ হেক্টরের বেশি জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে তোষা পাটের বীজ এবং ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবং প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত ফলন মিলছে। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষ ও জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে পাট চাষে তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।