ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগনোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই ক্যাম্পাস সাংবাদিককে হেনস্তা এবং তাঁদের মোবাইল ফোনের ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন মানবজমিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গভীর রাতে আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ এবং সিনিয়র সহসভাপতি পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরা।অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় ছাত্রদল কর্মী বাংলা বিভাগের আতিক হাসান, অর্থনীতি বিভাগের তানভীর ভূঁইয়া, আইন বিভাগের খান মোহাম্মদ রোম্মান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ফাইসাল হোসাইন ও কৃষি বিভাগের এম কে এম আকরাম খান সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং ভিডিও ধারণে বাধা দেন।মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম বলেন, হলের ছাদের দিকে মারামারি ও চিৎকারের শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের নেতা-কর্মীদের সিনিয়র সহসভাপতি পক্ষের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পকেট গেট দিয়ে বের করে দিতে দেখেন। তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।সিয়ামের অভিযোগ, এ সময় রোম্মান, আতিক, তানভীর ও ফাইসাল তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেন। রোম্মান তাঁর হাতে ও ঘাড়ে আঘাত করে মোবাইল ফোন দেখাতে বলেন। পরে জোরপূর্বক মোবাইলের লক খুলিয়ে ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সময় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি ও মাহী সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদল কর্মী ফাইসাল হোসাইন আমাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। পরে তিনি আমাদের ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।’নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নোবিপ্রবিতে কর্মরত দুজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য। আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেব।’অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে বিস্তারিতও জানি না। তবে আমি বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে বলতে পারব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ