ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

ইব্রাহিমের গোলে জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু বাংলাদেশের

ইব্রাহিমের গোলে জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু বাংলাদেশেরসাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দলের জয়সূচক গোলটি করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে মজার বিষয় হলো, ইব্রাহিমকে মাঠে নামানোর সময় তার কাছ থেকে গোল পাওয়ার প্রত্যাশা করেননি বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। বরং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোই ছিল তার মূল পরিকল্পনা।ম্যাচের শুরুতে একাদশে জায়গা পাননি ইব্রাহিম। ৬৫ মিনিটে ডিফেন্ডার থেকে স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলা বিশ্বনাথ ঘোষকে তুলে ফর্টিস এফসির এই ফুটবলারকে মাঠে নামান ডুলি। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন ইব্রাহিম। তার এমন পারফরম্যান্স কোচকেও অবাক করেছে।ম্যাচ শেষে ডুলি বলেন, ‘ম্যাচের একপর্যায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বিশ্বনাথ হাঁপিয়ে উঠেছিল। বক্সের কাছে বল ধরে রাখতে পারে, এমন একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন ছিল। তাই বিশ্বনাথকে তুলে ইব্রাহিমকে ১০ নম্বর পজিশনে এবং শমিতকে একেবারে ওপরে খেলানোর পরিকল্পনা করি। এতে শমিত গোলের সামনে কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করে হেডে গোল করার চেষ্টা করতে পারবে। আমি ভাবিনি ইব্রাহিম নিজেই গোল করে বসবে। ভেবেছিলাম, সে হয়তো কাউকে দিয়ে গোল করাবে। তবে ভালো ফুটবলাররা এমন মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।’এদিকে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বাংলাদেশের কোচ। তার মতে, বিশ্বনাথের খেলার ধরন ও শারীরিক সক্ষমতা তাকে আক্রমণভাগে কার্যকর করে তুলতে পারে। পাশাপাশি সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলালে পেনাল্টি কিংবা কার্ড দেখার ঝুঁকিও থাকে।ডুলির ভাষ্য, ‘বিশ্বনাথ খুবই তীব্রতা নিয়ে খেলে। সেন্টার ডিফেন্সে তাকে খেলালে পেনাল্টি কিংবা কার্ডের ঝুঁকি থেকে যায়। আমি ভেবেছিলাম, তার বিকল্প হতে পারে রাইট ব্যাক। সেখানেও তাকে মাঝেমধ্যে বক্সে আসতে হয়। ফরোয়ার্ডের নয় নম্বর পজিশনে চোট পাওয়ার ভয় থাকে, কিন্তু বিশ্বনাথ এসব ভয় পায় না। আশা করেছিলাম, সে গোল পাবে। দুর্ভাগ্যবশত পায়নি। তবে তার খেলায় আমি সন্তুষ্ট।’অন্যদিকে ভুটান ম্যাচের আগে শেষ মুহূর্তে একাদশ থেকে ছিটকে যান বাংলাদেশের অধিনায়ক তপু বর্মণ। ওয়ার্ম-আপের সময় অস্বস্তি অনুভব করায় তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি কোচ।এ বিষয়ে ডুলি বলেন, ‘ওয়ার্ম-আপে নামার পর সে অস্বস্তি বোধ করে। তার ফিটনেস ছিল ফিফটি-ফিফটি। খেলতে হলে শতভাগ, অন্তত ৮০ শতাংশ ফিট থাকতে হবে।’ ভুটানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরু পাওয়া বাংলাদেশ এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে।

ইব্রাহিমের গোলে জয় দিয়ে সাফ অভিযান শুরু বাংলাদেশের