বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস : তরুণদের তার্গেট করে বাড়ছে নিকোটিন পণ্যের আগ্রাসন
আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “আনমাস্কিং দ্য অ্যাপিল - কাউন্টারিং নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাডিকশন”। বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” শিরোনামে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো নতুন রূপ, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং আগ্রাসী প্রচারণার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের লক্ষ্য করে তামাকপণ্য বাজারজাত করছে। বিশেষ করে ই-সিগারেট, ভেপিং ডিভাইস, নিকোটিন পাউচসহ নতুন প্রজন্মের পণ্যগুলোকে “নিরাপদ” বা “কম ক্ষতিকর” হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।সম্প্রতি পাস হওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হলেও ই-সিগারেট, ভেপিং এবং অন্যান্য নতুন প্রজন্মের নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর ফলে তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি আরও বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ সব নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
প্রজ্ঞার মতে, তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে সদ্য পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় নীতিমালা প্রণয়ন এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সব ধরনের তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে সেগুলোকে তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।