ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

মনপুরায় সি-ট্রাক বন্ধ ৭ মাস, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাতায়াত

মনপুরায় সি-ট্রাক বন্ধ ৭ মাস, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাতায়াতসাগরকূলের বিচ্ছিন্ন উপজেলা ভোলার মনপুরায় যাতায়াতের জন্য বিআইডব্লিউটিসির একমাত্র সি-ট্রাক ৭ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনের ট্রলারে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী। মেঘনা নদীর বিপজ্জনক এলাকায় সি-সার্ভে ছাড়া নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও মাসের পর মাস অবৈধ ট্রলারে যাত্রী পারাপার চলছে। এসব ট্রলার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর কোনো তদারকি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাত্রীদের নিরাপদ মেঘনা পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিসি ‘এসটি ইলিশা’ নামে একটি সি-ট্রাক বরাদ্দ দেয়। তবে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ছাড়া কোনো নৌযানে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌপথে পণ্য পরিবহনের ট্রলারে যাত্রী পারাপার চলছে। এতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ যানে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জান-মালের নিরাপত্তায় দ্রুত সি-ট্রাক চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।গত ২৭ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, সাগরকূলের মনপুরা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি পণ্য পরিবহনের ট্রলার উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে তজুমদ্দিন ঘাটে আসছে। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা খোন্দলের মধ্যে গাদাগাদি করে বসে আছেন যাত্রীরা। ট্রলারটির কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট বা যাত্রী পরিবহনের বৈধ অনুমতি নেই। তারপরও প্রায় ৭ মাস ধরে এটি যাত্রী পরিবহন করছে। নেই কোনো বসার স্থান, নেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম। প্রচণ্ড গরম আর বৈরী আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস অবস্থা যাত্রীদের। এর মধ্যেই জীবন ঝুঁকি নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন শতাধিক মানুষ।এদিন বিকেলে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য ঘাটে আসেন হাজিরহাট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তপন চন্দ্র হাওলাদার। ট্রলারের দুরাবস্থা ও নদীর ঢেউ দেখে তিনি উঠতে সাহস পাননি। তপনের ভাষ্য, মনপুরার প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। রহম আলী নামের আরেক যাত্রী বলেন, পণ্যবাহী ট্রলারের খোন্দলে করে যাত্রী, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি ও মালামাল একসঙ্গে পরিবহন করা হয়। মাঝ নদীতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে নারী-শিশুসহ যাত্রীদের কান্নার রোল পড়ে যায়।বিআইডব্লিউটিসির উপবাণিজ্য ব্যবস্থাপক (যাত্রী) খন্দকার মুহাম্মদ তানভী হোসেন জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইজারা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সি-ট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই সি-ট্রাক চালু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি ভোলা সফরে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানান, মানুষের ভোগান্তি লাগবে সরকারি বা বেসরকারি যেখান থেকে সম্ভব জাহাজ দেওয়া হবে এবং সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত নিরাপদ নৌযান চালু করলেই মনপুরার মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

মনপুরায় সি-ট্রাক বন্ধ ৭ মাস, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাতায়াত