সৌদি আরবের আরামকো শোধনাগারে হুতিদের ড্রোন হামলা, আগুন নিয়ন্ত্রণে
সৌদি আরবের আরামকো শোধনাগারে হুতিদের ড্রোন হামলা, আগুন নিয়ন্ত্রণেইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জাজান এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। রোববার (৯ আগস্ট) চালানো এ হামলায় শোধনাগারে আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, একটি ড্রোন দিয়ে জাজান শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের জাজান ও লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু এলাকায় আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুতিরা।সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাজান শোধনাগারে আগুন লাগার পর তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।ইয়েমেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবে অবস্থিত জাজান শোধনাগারটির দৈনিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল। তবে রয়টার্সের দেখা একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নোট অনুযায়ী, হুতিদের আগের হামলায় শোধনাগারের ইন্টিগ্রেটেড গ্যাসিফিকেশন কম্বাইন্ড সাইকেল (আইজিসিসি) কমপ্লেক্স ও ট্যাংক ফার্ম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গত ২৭ জুলাই এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। শোধনাগারটিতে গ্যাসোলিন ও আল্ট্রা-লাইট সালফার ডিজেলও উৎপাদন করা হয়।এদিকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের মোচা বন্দর শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। ইয়াহিয়া সারির দাবি, সেখানে সৌদি সেনা ও অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মোচা শহরটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।ইয়েমেন সরকারের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করতে শহরটিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।এর মধ্যেই আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে গত শুক্রবার তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ভাষ্য, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং তিন দেশের নিরাপত্তা জোরদার করাই এর লক্ষ্য।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলায় কিছু উৎপাদন ব্যাহত হলেও আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের জানিয়েছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত এসব হামলার কারণে কোম্পানিটির সামগ্রিক পরিচালন কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।