ঢাকা    শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

বিয়ে এড়াতেই বাগ্‌দত্তাকে হত্যা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

বিয়ে এড়াতেই বাগ্‌দত্তাকে হত্যা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিপরিবারের মন ভাঙতে চাননি। তাই বিয়ে বাতিলের পরিবর্তে বাগ্‌দত্তাকে হত্যা করাকেই সহজ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ভারতের মহারাষ্ট্রের তরুণী সিয়া গোয়েল। পুনের আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন মহারাষ্ট্রের পুনের লোহাগড় দুর্গের একটি পাহাড়চূড়া থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে কেতন আগরওয়ালের। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার তথ্য।পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়েল তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন। কারণ, পরিবারের পছন্দে ঠিক হওয়া এ বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না সিয়া।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানান, পরিবারের অমতে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেয়ে কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই তাঁর কাছে সহজ ও নিরাপদ মনে হয়েছিল। পরিবারের অনুভূতিতে আঘাত করতে চাননি বলেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুনে ও লোনাভালা পুলিশ যৌথভাবে ছয়টি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিয়ার বাবা-মাকে লোনাভালা সিটি পুলিশ স্টেশনে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ভাই সাহিল গোয়েলকেও দ্বিতীয়বারের মতো জেরা করা হয়েছে।প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে সাহিল গোয়েল পুলিশকে জানান, গত বছর একটি ক্রিকেট ম্যাচে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বোনের প্রথম পরিচয় হয়। পরে দীপাবলির এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাঁদের আবার দেখা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিয়া ও চেতনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।পুলিশের বিশ্লেষণ করা কল রেকর্ড থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিয়া ও চেতন পরস্পরের সঙ্গে দুই হাজারের বেশি বার ফোনে কথা বলেছেন। তাঁদের কথোপকথনের মোট সময় ছিল প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা।এদিকে সিয়ার বাবা-মা দাবি করেছেন, চেতন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁদের কখনো দেখা বা কথা হয়নি। অন্যদিকে সিয়ার আইনজীবীর দাবি, চেতন কেবলই সিয়ার একজন বন্ধু। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডে সিয়া ও চেতন—দুজনেরই সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার নেপথ্যের পুরো চিত্র উদ্‌ঘাটনে আসামিদের মোবাইল ফোন থেকে মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি যাঁদের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল, সেই ঘটক বা ম্যাচমেকারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিয়ে এড়াতেই বাগ্‌দত্তাকে হত্যা, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি