ঢাকা    শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
RTN News

টানা বৃষ্টিতে মনপুরায় জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

টানা বৃষ্টিতে মনপুরায় জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষভোলা প্রতিনিধি: টানা আট দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা।টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের চুলায় রান্না হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ও উঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ ঘরের ভেতরে উঁচু চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, আবার কেউ আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু স্থানে।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খাল, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী এলাকা। এছাড়া কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অকেজো স্লুইসগেট, খাল দখল এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা দ্রুত স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।জলাবদ্ধতার কারণে অনেক নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের পানি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে মনপুরায় জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ