ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

টানা বর্ষণে পানির নিচে সড়ক, সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা বর্ষণে পানির নিচে সড়ক, সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্নখাগড়াছড়িতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে একাধিক সড়ক, ফলে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।মঙ্গলবার (তারিখ অনুযায়ী) বিকেল থেকে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং অংশ এবং দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারসংলগ্ন এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার সেতুসহ সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকার সড়ক প্লাবিত হওয়ায় দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা হয়েছে। মেরুং রাজাবাড়িসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এলাকা এবং গুইমারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় জেলার ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

টানা বর্ষণে পানির নিচে সড়ক, সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন