কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি-কুপিয়ে হত্যা, হামলা চলে মাত্র ৩৫ সেকেন্ড
কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি-কুপিয়ে হত্যা, হামলা চলে মাত্র ৩৫ সেকেন্ডঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি সেলুনে ঢুকে ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, পুরো হামলার ঘটনা ঘটে মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ ওই এলাকার মেম্বার গলিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে আরশিনগরের রাজ সেলুনে চুল কাটাচ্ছিলেন ফরহাদ। এ সময় অস্ত্রধারী কয়েকজন যুবক সেলুনে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে সেলুনে থাকা অন্যরা আতঙ্কে বের হয়ে যান। পরে ফরহাদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাঁকে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ৭ মিনিট ৬ সেকেন্ডে ক্যাপ পরা দুজন তরুণ সেলুনে প্রবেশ করেন। তাঁদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ বস্তু দেখা যায়। সেলুনে ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁরা বেরিয়ে যান। এরপর চাপাতি সদৃশ অস্ত্র হাতে আরও একজন সেখানে প্রবেশ করেন।কিছুক্ষণ পর ফরহাদ খালি গায়ে ও লুঙ্গি পরা অবস্থায় সেলুন থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীদের একজন পেছন থেকে তাঁর লুঙ্গি ধরে ফেলেন। অন্যরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ফরহাদ হামলাকারীদের কাছ থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।সিসিটিভি অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৭ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অর্থাৎ সেলুনে প্রবেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো হামলায় সময় লাগে প্রায় ৩৫ সেকেন্ড।পরে স্থানীয় লোকজন ও ফরহাদের স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলিতে গুরুতর আহত ফরহাদকে হাসপাতালে আনার পর বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।নিহতের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, মোহাম্মদপুরের বসিলা সড়কের ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন ফরহাদ। সেখানে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকা অগ্রিমসহ প্রতিদিন টাকা দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।ফরহাদের বন্ধু সাকিবের অভিযোগ, সাব্বিরের নেতৃত্বে সাগর, হাবিব, আরমানসহ কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার সঙ্গে জড়িত দুই পক্ষের লোকজনই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার। পূর্ববিরোধের জেরে হামলাকারীরা সেখান থেকে আরশিনগরে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে।এদিকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের দাবি, নিহত ফরহাদ নিজেও ‘প্যাটালি গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘এলেক্স গ্রুপের’ হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।