ঢাকা    মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, তলিয়ে গেছে সড়ক; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় আকস্মিক বন্যা, প্লাবিত ৪০ গ্রাম বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, তলিয়ে গেছে সড়ক; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংবাদ: ভারী বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা নদ-নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কলমাকান্দা উপজেলার খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুতগতিতে প্রবেশ করছে। এতে ইউনিয়নগুলোর অন্তত ৪০টি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।খারনই ইউনিয়ন থেকে কলমাকান্দা উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কের প্রায় ২০টি স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল স্রোতে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাত থেকে সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ শুরু হলে রাতারাতি বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।খারনই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক জানান, মংলেশ্বরী নদ ও বিভিন্ন নালা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় অনেক গ্রামের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘরের ভেতর দিয়েও পানি ঢুকেছে। একই সঙ্গে পুকুর ভেসে মাছ বেরিয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় সব সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান খান পাঠান বলেন, মহাদেও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, গণেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ছে।দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নেতাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দিনের মধ্যেই আরও অনেক বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখওয়াত হোসেন জানান, অবিরাম বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কলমাকান্দার উপদাখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আরও বাড়তে পারে। কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে প্রশাসনের দল মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, তলিয়ে গেছে সড়ক; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান