র্যাবের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৬৭ নতুন গাড়ি, ব্যয় ১২০ কোটি টাকা
র্যাবের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৬৭ নতুন গাড়ি, ব্যয় ১২০ কোটি টাকার্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ১৬৭টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব যানবাহন কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে এ অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে গত মে মাসে র্যাবের জন্য আরও ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ফলে দুই দফায় র্যাবের জন্য ৩৩০টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম ১৬৭টি গাড়ি কেনার বিস্তারিত চাহিদাপত্র পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠান। পরে ২ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর গাড়িগুলো কেনার সুপারিশসহ প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের কাছে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।র্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল সেকশন ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় নতুন গাড়িগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি প্যাট্রল পিকআপ, ৪৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস, ৫০টি প্যাট্রল কার, তিনটি ডগ ভ্যান, ১০টি ট্রাক, তিনটি জিপ, দুটি রিকভারি ভেহিকল, একটি মোবাইল ওয়ার্কশপ ভেহিকল ও চারটি রায়ট ভ্যান।তবে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বর্তমানে সরকারি অর্থে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। গত ৮ জুলাই এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পরিপত্রের আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব বিধিনিষেধ শিথিলযোগ্য। র্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে মাদক ও সন্ত্রাস দমন এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি যুক্ত থাকায় বিশেষ বিবেচনায় গাড়ি কেনার অনুমোদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।র্যাবের গাড়ির ঘাটতি ৬৬৮প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, র্যাবের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা ৩ হাজার ১৪৫টি। এর বিপরীতে বর্তমানে ঘাটতি রয়েছে ৬৬৮টি গাড়ির। এ ছাড়া ২৫৬টি গাড়ি ইতোমধ্যে অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে এবং আরও ৮৯টি গাড়ি অকেজো ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সাতটি গাড়ি আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে।এ ছাড়া র্যাবের ৯৪৩টি গাড়ির বয়স ১০ বছরের বেশি। এসব গাড়ির গড় মাইলেজ এক লাখ কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় এগুলো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রকল্পের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।মে মাসে অনুমোদন পায় আরও ১৬৩ গাড়িএর আগে গত ৭ মে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা দিয়ে এসব গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) গাড়িগুলো সরবরাহের কথা রয়েছে।২০১৮ সালে শুরু প্রকল্পর্যাবের আভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরে ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন করে ২০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা কমানো হয়। এতে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা।২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এদিকে র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ না হওয়ায় সরকারি নথিতে বাহিনীটির নাম ‘র্যাব’ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।