ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি, দুই দিনে ৫০২ মামলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি, দুই দিনে ৫০২ মামলাঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর পর থেকেই একের পর এক ধরা পড়ছে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা। সিস্টেম চালুর প্রথম দুই দিনে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ৫০২টি মামলা করা হয়েছে।হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং, নির্ধারিত লেন না মানা ও বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিংসহ বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করছে এআই ক্যামেরা। এসব ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা তৈরি হচ্ছে। পরে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে পাঠানো হচ্ছে মামলার তথ্য।হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এ স্বয়ংক্রিয় নজরদারির আওতায় রয়েছে। মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা। এর মধ্যে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশে রয়েছে ১৯৯টি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকার এআই ক্যামেরা মনিটরিং ডেটা সেন্টারের ইনচার্জ আনিছুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল। বুধবার তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার করা হয়। তিনি বলেন, বেশির ভাগ মামলা হচ্ছে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমের কারণে। তবে ধীরে ধীরে চালকেরা সতর্ক হচ্ছেন।এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এআইভিত্তিক নজরদারি চালু হওয়ায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা ও শৃঙ্খলা বাড়বে।কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, উন্নত দেশের প্রযুক্তির এই সুবিধা দেশের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আরও প্রচারণা প্রয়োজন। এতে সরকারের উদ্যোগটি সফল হবে। হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, মহাসড়কে এআই ক্যামেরার কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। এতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদার হবে। ইতিমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শুধু জরিমানা আদায় নয়, মহাসড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ যান চলাচল নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যেও এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি, দুই দিনে ৫০২ মামলা