ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ২, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মাউমেরে বন্দরে দুজনের মৃত্যু, বিএমকেজি সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়ার আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যান হাজারো বাসিন্দা ইন্দোনেশিয়ায় ফ্লোরেস ন্দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।শক্তিশালী এ ভূ-কম্পনের পর সুনামির আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে।যেভাবে ও কোথায় আঘাত হানেস্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটের দিকে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের নাগেওকেও এলাকার কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এর কেন্দ্র ছিল নাগেওকেওর মবায়ে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।সুনামি সতর্কতা জারি ও প্রত্যাহারবিএমকেজি জানায়, ভূমিকম্পটির পর সুনামি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল।তবে কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতির নতুন তথ্য জানিয়ে সংস্থাটি জানায়, ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে জারি করা সুনামি সতর্কতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা অন্যান্য অঞ্চলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সবশেষ তথ্যইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, মাউমেরে বন্দরে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন, এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। মূল ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১ মাত্রার তিনটি আফটারশক আঘাত হানে। স্থানীয় গণমাধ্যমের ফুটেজে বন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। সিক্কা রিজেন্সির বাসিন্দা ইয়োহানা এম্বু জানান, মাউমেরে বন্দরের পেলনি টার্মিনালের অপেক্ষা কক্ষ ধসে পড়তে দেখেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে একই উপকূলীয় এলাকায় প্রায় একই মাত্রার ভূমিকম্প ও তার সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেসে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপের পাঁচ লাখের বেশি মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং বিস্তৃত অঞ্চলে আরও কয়েক লাখ মানুষ মাঝারি থেকে তীব্র কম্পন টের পেয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য আরও আফটারশকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে।