ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
RTN News

পিস্তল হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, বৈধতা ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

পিস্তল হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, বৈধতা ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তাঁর ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্রের বৈধতা, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের বিধান এবং মাদকবিরোধী অভিযানে জনপ্রতিনিধির সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে আটক কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।ঘটনাস্থলে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বারবার অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী বিকেল ৩টার দিকে সেখানে যান। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে বলে দাবি করেন তিনি।অস্ত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নপ্রতিমন্ত্রী ইশরাক জানিয়েছেন, তাঁর হাতে থাকা পিস্তলটি বৈধ। তবে নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার তথ্য উল্লেখ করেননি।এ বিষয়ে ইশরাক বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর তিনি অস্ত্রটি নেন। তাঁর ভাষ্য, অস্ত্র নেওয়ার সময় মনোনয়নপত্রে তা উল্লেখ করার সুযোগ ছিল না।তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ইশরাক ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনে কী বলে নীতিমালাস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালার ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ব্যবহারের শর্ত উল্লেখ রয়েছে। ওই অনুচ্ছেদের ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।অভিযানে অস্ত্র হাতে থাকার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর সংসদীয় আসনের গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছেন, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেখানে গেছেন।ইশরাকের অভিযোগ, তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ বার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন সময়ে জনবল ও গাড়ির সংকটের কথা জানিয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি চালায় বলে তাঁর হাতে অস্ত্র ছিল। তবে তিনি কাউকে গুলি করেননি বা অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাননি বলে দাবি করেন।পুলিশের বক্তব্য কীপ্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, গত ১১ অক্টোবর ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। ওই অভিযানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরাও ছিলেন।ওসি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। অভিযান ও এর ফলাফল সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়।আইনজীবীর বক্তব্যপ্রতিমন্ত্রী ইশরাককে এর আগেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে শনিবারের মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি তাঁর পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের দায়িত্ব নির্দেশনা দেওয়া, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। মন্ত্রীকেই যদি অস্ত্র হাতে অভিযানে নামতে হয়, তাহলে পুলিশের ভূমিকা কী?শরীফ ভূঁইয়ার ভাষ্য, প্রতিমন্ত্রী যেভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তা বেআইনি।ঘটনাটি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—অস্ত্রটি বৈধ হলেও অভিযানের সময় তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন আইনসম্মত ছিল কি না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থাকলে তার সমাধান কীভাবে হবে।

পিস্তল হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, বৈধতা ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন