ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

যথাযথ মর্যাদায় বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাত বার্ষিকী পালিতবেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকদিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, শোক র‌্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মরণসভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, বৃক্ষরোপণ এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় শহিদ আবু সাঈদের বাবা, ভাই, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।কবর জিয়ারত শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি শোক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। র‌্যালিটি পার্কের মোড়ে শহিদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।পরে শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পার্কের মোড়ে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসিক হল, আধুনিক অডিটোরিয়াম, জিমনেশিয়াম এবং ‘শহিদ আবু সাঈদ গেট’ ও স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত রংপুর অঞ্চলের শিক্ষা ও উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক বাজেটের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকরে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈষম্য কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের চাকরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে বেরোবিতে একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় শহিদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. ফেরদৌস রহমান, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং শহিদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ও শাহরিয়ার সোহাগ বক্তব্য দেন।স্মরণসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম, রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।স্মরণসভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহিদ আবু সাঈদের অবদান নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্বাধীনতা স্মারক মাঠে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

যথাযথ মর্যাদায় বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাত বার্ষিকী পালিত