ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র, সংঘর্ষে উত্তেজনা
ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র, সংঘর্ষে উত্তেজনাফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের সময় অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।আন্দোলনকারীরা আগামী মঙ্গলবার নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও সরকারকে দাবি বাস্তবায়নে চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউএসএলের প্রধান রিয়াদ রানি বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে। তবে এখনো তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।সেপ্টেম্বরে প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কোথাও কোথাও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলে তাদের দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এমন কক্ষ, শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের অনুপস্থিতির মতো সমস্যাও রয়েছে বলে তাদের দাবি।এদিকে দক্ষিণ ফ্রান্সের লা সিওতা শহরে এক শিক্ষককে ঘিরে সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক শিক্ষকের শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে দেওয়ার পর দুই ব্যক্তি তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।শুক্রবার দেশটির ৩ হাজার ৭০০ স্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে বিক্ষোভের প্রভাবে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে।বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরাঞ্চলীয় লিলে শহরের এক শিক্ষার্থী পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশ বাহিনী অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
আগামী নির্বাচনের মাত্র সাত মাস আগে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ফ্রান্সের রাজনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি করেছে।