বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না: পেজেশকিয়ান
বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানকে দমানো যাবে না: পেজেশকিয়ানবোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তি তৈরি হলে শত্রুপক্ষ তাদের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ পাবে। তাই জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।পেজেশকিয়ান বলেন, বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো সমাজকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তবে দেশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে শত্রুপক্ষ তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সামনে যেসব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, সেগুলো মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।এদিকে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এসব পরিকল্পনায় মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।এ বিষয়ে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে এই বোমা ব্যবহার করে ট্রাম্পের ঘোষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন কিংবা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরেই সংশয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ চলার পরও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতামূলক চুক্তির সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়নি। যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নতুন বিকল্প তুলে ধরলেও যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর মতো কার্যকর ও সমন্বিত কৌশল হোয়াইট হাউসের হাতে রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই রয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা একাধিক বৈঠক করেছেন। তবে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: প্রেসটিভি, আল-জাজিরা ও সিএনএন