ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় লেমুর বিক্রির দাবি, নিশ্চিত নয় সিআইডি


প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় লেমুর বিক্রির দাবি, নিশ্চিত নয় সিআইডি

বনতারায় চুরি হওয়া লেমুর আছে কি না, নিশ্চিত নয় সিআইডি

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিং-টেইলড লেমুর ভারতের গুজরাটে আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বনতারায় রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেমুর দুটি বনতারায় প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও সিআইডি বলছে, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া বনতারায় থাকা লেমুরগুলোই গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া প্রাণী—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ছুফি উল্লাহ বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়ার পর লেমুর দুটি পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ভারতে নেওয়া হয়েছে—গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভারতে নেওয়ার পর প্রাণী দুটি কোথায় গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া লেমুর দুটি হাতবদল হয়ে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় বিক্রি হয়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি সিআইডি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বনতারায় থাকা লেমুরের সঙ্গে গাজীপুরের চুরি হওয়া লেমুরের মিল আছে কি না, তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে গত শুক্রবার নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বনতারা জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে বাংলাদেশের কোনো তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে তারা কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি।

বনতারা আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি। তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনে তারা প্রস্তুত। প্রাণীগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা তাতে সহযোগিতা করবে।

সিআইডির কর্মকর্তা ছুফি উল্লাহ বলেন, লেমুর দুটি পাচারের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেলেও বনতারায় সেগুলো রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ এখনো তাদের হাতে নেই। এর অন্যতম কারণ, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলোর ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি।

তিনি জানান, সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলোর মধ্যে পরে মারা যাওয়া একটি প্রাণীর নমুনা সংরক্ষিত ছিল। সেটি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বন অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, তাদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাকাও, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সঙ্গে দুটি রিং-টেইলড লেমুর জব্দ করা হয়। পরে বন বিভাগের নির্দেশে প্রাণীগুলো শ্রীপুরের সাফারি পার্কে পাঠানো হয়।

সাফারি পার্কে থাকা অবস্থায় ওই জোড়া লেমুরের দুটি পুরুষ বাচ্চা জন্ম নেয়। ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি বাচ্চা মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে বাচ্চাসহ তিনটি লেমুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়। পরে ১৮ এপ্রিল রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকা থেকে পরিত্যক্ত খাঁচায় বন্দী অবস্থায় একটি বাচ্চা লেমুর উদ্ধার করা হয়। সাফারি পার্কে ফেরত পাঠানোর কয়েক মাস পর সেটিও মারা যায়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা নিপেল মাহমুদ সাফারি পার্কে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতেন। একই এলাকার বন্যপ্রাণী পাচারকারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল মিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করে লেমুর কেনাবেচার প্রস্তাব দেন।

পরে ২৩ মার্চ রাতে জুয়েলসহ অজ্ঞাতনামা একজন সাফারি পার্কে গিয়ে তিনটি লেমুর চুরি করেন। জুয়েল পরে লেমুর তিনটি সাত লাখ টাকায় পাখি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন তাওসিফের কাছে বিক্রি করেন। তাওসিফ সেগুলো নয় লাখ টাকায় বাবলু ও শিপলু নামে দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, বাবলু নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের এবং শিপলু নিজেকে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে লেমুর দুটি সীমান্তপথে ভারতে পাচার করা হয়। তবে সেগুলো শেষ পর্যন্ত বনতারায় পৌঁছেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিষয় : চুরি

RTN News

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় লেমুর বিক্রির দাবি, নিশ্চিত নয় সিআইডি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বনতারায় চুরি হওয়া লেমুর আছে কি না, নিশ্চিত নয় সিআইডি

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিং-টেইলড লেমুর ভারতের গুজরাটে আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বনতারায় রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেমুর দুটি বনতারায় প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও সিআইডি বলছে, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া বনতারায় থাকা লেমুরগুলোই গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া প্রাণী—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ছুফি উল্লাহ বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়ার পর লেমুর দুটি পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ভারতে নেওয়া হয়েছে—গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভারতে নেওয়ার পর প্রাণী দুটি কোথায় গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া লেমুর দুটি হাতবদল হয়ে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় বিক্রি হয়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি সিআইডি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বনতারায় থাকা লেমুরের সঙ্গে গাজীপুরের চুরি হওয়া লেমুরের মিল আছে কি না, তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

এদিকে গত শুক্রবার নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বনতারা জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে বাংলাদেশের কোনো তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে তারা কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি।

বনতারা আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি। তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনে তারা প্রস্তুত। প্রাণীগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা তাতে সহযোগিতা করবে।

সিআইডির কর্মকর্তা ছুফি উল্লাহ বলেন, লেমুর দুটি পাচারের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেলেও বনতারায় সেগুলো রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ এখনো তাদের হাতে নেই। এর অন্যতম কারণ, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলোর ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি।

তিনি জানান, সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলোর মধ্যে পরে মারা যাওয়া একটি প্রাণীর নমুনা সংরক্ষিত ছিল। সেটি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বন অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, তাদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাকাও, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সঙ্গে দুটি রিং-টেইলড লেমুর জব্দ করা হয়। পরে বন বিভাগের নির্দেশে প্রাণীগুলো শ্রীপুরের সাফারি পার্কে পাঠানো হয়।

সাফারি পার্কে থাকা অবস্থায় ওই জোড়া লেমুরের দুটি পুরুষ বাচ্চা জন্ম নেয়। ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি বাচ্চা মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে বাচ্চাসহ তিনটি লেমুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়। পরে ১৮ এপ্রিল রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকা থেকে পরিত্যক্ত খাঁচায় বন্দী অবস্থায় একটি বাচ্চা লেমুর উদ্ধার করা হয়। সাফারি পার্কে ফেরত পাঠানোর কয়েক মাস পর সেটিও মারা যায়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা নিপেল মাহমুদ সাফারি পার্কে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতেন। একই এলাকার বন্যপ্রাণী পাচারকারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল মিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করে লেমুর কেনাবেচার প্রস্তাব দেন।

পরে ২৩ মার্চ রাতে জুয়েলসহ অজ্ঞাতনামা একজন সাফারি পার্কে গিয়ে তিনটি লেমুর চুরি করেন। জুয়েল পরে লেমুর তিনটি সাত লাখ টাকায় পাখি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন তাওসিফের কাছে বিক্রি করেন। তাওসিফ সেগুলো নয় লাখ টাকায় বাবলু ও শিপলু নামে দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, বাবলু নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের এবং শিপলু নিজেকে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে লেমুর দুটি সীমান্তপথে ভারতে পাচার করা হয়। তবে সেগুলো শেষ পর্যন্ত বনতারায় পৌঁছেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় লেমুর বিক্রির দাবি, নিশ্চিত নয় সিআইডি
0:00 0:00
1.0x