রাজশাহীতে বাড়ছে পদ্মার পানি, বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহ
রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৩২ মিটার। এর আগের দিন শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২০ মিটার। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে পানি বেড়েছে ১২ সেন্টিমিটার।
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। সে হিসাবে বর্তমানে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।
পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মার বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বাসিন্দাদের। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
সরেজমিন নগরীর পঞ্চবটি এলাকায় দেখা যায়, নদীতীরবর্তী বেশ কয়েকটি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ফাতেমা নামের এক নারী ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে সড়কে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ঘরে পানি ঢোকার পাশাপাশি একটি সাপও দেখতে পেয়েছেন। এ কারণে জিনিসপত্র নিয়ে সড়কে চলে এসেছেন। আপাতত এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেবেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি বলেন, শহররক্ষা বাঁধের নিচে থাকা বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। এসব বাড়িতে প্রতিবছর বন্যার সময় পানি ঢোকে। তখন বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন। পানি নেমে গেলে আবার তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের ঢলে গত ১০ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। তবে এখনো পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহররক্ষা বাঁধ নিয়েও এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাঁধে কোনো ধরনের ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
পদ্মার পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন।