ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন, সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত


প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন, সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে গত সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও পুড়ে যায়

রূপপুরে আগুন, আইএইএর পুরোনো সতর্কতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ওই ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরু করা যায়নি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে অভ্যন্তরীণ সার্ভার, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগে চিহ্নিত অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা কতটা দূর করা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গত সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দুটি কক্ষের আসবাব, নথি ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়েছে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দেয়। এতে শ্রমিকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

প্রাথমিকভাবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতরের অংশের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করছে।

আগেই অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করেছিল আইএইএ

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত বছরের ১০ থেকে ২৭ আগস্ট রূপপুর পরিদর্শন করে আইএইএর বিশেষজ্ঞ দল। পরিদর্শন শেষে সংস্থাটি জানায়, নিরাপত্তা উন্নয়নে প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, পরিচালন কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো এবং যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থাৎ, রূপপুরের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পরই প্রথম সামনে আসেনি; আন্তর্জাতিক পর্যালোচনাতেই বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছিল।

অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতিতে পিছিয়েছিল ফুয়েল লোডিং

আইএইএর পর্যবেক্ষণের পর অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে চলতি বছরের এপ্রিলে। ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কমিশনিং লাইসেন্স দেয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফুয়েল লোডিং শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ভরা শুরু হয়। জুলাইয়ে সেখানে পূর্ণাঙ্গ জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, জ্বালানি ভরার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

৪৯ কর্মী নিয়ে ফায়ার স্টেশন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরমাণু বিশেষজ্ঞ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় অত্যাধুনিক বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকা জরুরি। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ ধরনের স্থাপনায় ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল প্রয়োজন হতে পারে।

তবে রূপপুরে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ৪৯ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞটির মতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কয়েক মিনিটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কি না, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আশপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

মূল স্থাপনার বাইরে আগুন, তবু প্রশ্ন

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে। ফলে কেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা শুধু মূল চুল্লি ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সহায়ক অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও সামগ্রিক নিরাপত্তার অংশ।

রূপপুর প্রকল্পের আশপাশে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার বিষয়টিও মূল নকশায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগে প্রকল্পের সীমানার বাইরেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর তাই রূপপুর প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আগুনের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং কোথাও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয় : আগুন

RTN News

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন, সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রূপপুরে আগুন, আইএইএর পুরোনো সতর্কতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা আগেই চিহ্নিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ওই ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি ভরা বা ফুয়েল লোডিং শুরু করা যায়নি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এর কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে অভ্যন্তরীণ সার্ভার, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগে চিহ্নিত অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা কতটা দূর করা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গত সোমবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দুটি কক্ষের আসবাব, নথি ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হয়েছে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দেয়। এতে শ্রমিকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

প্রাথমিকভাবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ভেতরের অংশের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করছে।

আগেই অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করেছিল আইএইএ

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত বছরের ১০ থেকে ২৭ আগস্ট রূপপুর পরিদর্শন করে আইএইএর বিশেষজ্ঞ দল। পরিদর্শন শেষে সংস্থাটি জানায়, নিরাপত্তা উন্নয়নে প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, পরিচালন কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো এবং যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থাৎ, রূপপুরের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পরই প্রথম সামনে আসেনি; আন্তর্জাতিক পর্যালোচনাতেই বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছিল।

অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতিতে পিছিয়েছিল ফুয়েল লোডিং

আইএইএর পর্যবেক্ষণের পর অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে চলতি বছরের এপ্রিলে। ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কমিশনিং লাইসেন্স দেয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফুয়েল লোডিং শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ভরা শুরু হয়। জুলাইয়ে সেখানে পূর্ণাঙ্গ জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, জ্বালানি ভরার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

৪৯ কর্মী নিয়ে ফায়ার স্টেশন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরমাণু বিশেষজ্ঞ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় অত্যাধুনিক বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকা জরুরি। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ ধরনের স্থাপনায় ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল প্রয়োজন হতে পারে।

তবে রূপপুরে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ৪৯ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞটির মতে, অগ্নিকাণ্ডের প্রথম কয়েক মিনিটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কি না, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আশপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

মূল স্থাপনার বাইরে আগুন, তবু প্রশ্ন

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে। ফলে কেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা শুধু মূল চুল্লি ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সহায়ক অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও সামগ্রিক নিরাপত্তার অংশ।

রূপপুর প্রকল্পের আশপাশে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার বিষয়টিও মূল নকশায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগে প্রকল্পের সীমানার বাইরেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর তাই রূপপুর প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আগুনের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং কোথাও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগুন, সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত
0:00 0:00
1.0x