ডিএনএ পরীক্ষায় ৯৯.৯৯% মিল, মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় চার্জশিট
নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক কওমি মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার মামলায় প্রধান আসামি শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর হুজুরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোণা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন মদন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএতে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে সংগ্রহ করা নমুনা ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।
মামলার দুই আসামি হলেন আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর হুজুর (৩০) এবং তাঁর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০২০)–এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার পাঁচহাট বড়বাড়ি এলাকার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় মামলা করেন।
ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে র্যাব-১৪-এর একটি দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে মামলার প্রধান আসামি সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
চলতি বছরের ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় ভুক্তভোগী শিশুটি। বর্তমানে শিশুটি ও তার সন্তান একটি সেফহোমে নিরাপদে রয়েছে।
গত ২৮ জুলাই আদালতের নির্দেশে সিআইডির একটি দল নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠায়। সম্প্রতি ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পৌঁছায়। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্কের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার ফলসহ তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। চার্জশিট দাখিলের ফলে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়েছে।