এক রাতে তিন জেলায় তিন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া ও সিলেটে পৃথক ঘটনায় তিন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ভৈরবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর এবং বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্য রয়েছেন।
ভৈরবে যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ীকে হত্যা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন সৈকত (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের টিন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন পৌর শহরের আড়াই ব্যাপারী বাড়ির মৃত জসিম মিয়ার ছেলে। তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে রানীর বাজার শাহী মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় ফিরছিলেন আল আমিন। পথে ওত পেতে থাকা দুজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী তানিয়া বেগমের দাবি, রাজনৈতিক ও জমি-সংক্রান্ত পারিবারিক মামলায় তাঁর স্বামী জেল খেটেছেন এবং তাঁর অনেক শত্রু ছিল। তিনি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়ায় সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা এলাকায় সাইফুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সাইফুল ইসলাম আশোকোলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে বাঘোপাড়া বন্দর মোড় এলাকায় চা খেতে যান সাইফুল। পরে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজের কাছে কয়েকজন তাঁর পথরোধ করে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইফুলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাবিয়া বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সিলেটে বাসার পাশেই ব্যবসায়ীকে হত্যা
সিলেট মহানগরের শাহপরান (রহ.) থানা এলাকায় সাহাব উদ্দিন (৬০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে ইসলামাবাদ এলাকার মাদরাসা রোডে এ ঘটনা ঘটে।
সাহাব উদ্দিন ওই এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মাদরাসা রোডে তাঁর একটি দোকান রয়েছে। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের ইজ্জত আলীর ছেলে।
নিহতের ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, রাতে একজন ব্যক্তি তাঁর বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে বলে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাহপরান থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে সাহাব উদ্দিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়নি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।