২৪ ঘণ্টার আগেই চার খুনের ঘটনায় দুইজন আটক, প্রশংসিত রংপুর পুলিশের তৎপরতা
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা প্রশংসা পাচ্ছে।
আটক দুজন হলেন সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩)। তাঁদের বাড়ি রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার তুতফার্ম, কামাল কাছনা এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) চার খুনের ঘটনার পরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে মাঠে নামে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। ম্যানুয়াল সোর্সিং, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুতই দুইজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
এরপর অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ দাসকে তাঁর চাচার বাসা থেকে আটক করা হয়। অন্যদিকে মুগ্ধ দাসকে তাঁর বাড়ি থেকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি টিনের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যান। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া ও অভিযান চালিয়ে তুতপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুগ্ধ দাস হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পরস্পরসঙ্গত তথ্য পাওয়া যায়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করায় পুলিশের ওপর আস্থা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রী, লুণ্ঠিত মালামাল ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এ দ্রুত তৎপরতায় চার খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, পরিকল্পনা ও জড়িত অন্যদের শনাক্ত করাই পুলিশের পরবর্তী লক্ষ্য।