মাদক নিরাময় কেন্দ্রের জানালা ভেঙে একসঙ্গে ৩০ রোগীর পলায়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে একসঙ্গে প্রায় ৩০ জন চিকিৎসাধীন রোগী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ‘প্রয়াস মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছিল। দুপুরে চিকিৎসাধীন রোগীরা ভবনের জানালা ভেঙে পাশের একটি ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান তাঁরা। দিনদুপুরে এমনভাবে একসঙ্গে এত রোগীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার রাতে ওই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মো. ফোরকান নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়। কেন্দ্রের কর্মচারীদের মারধরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ ও তথ্য অন্য রোগীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পরদিন দুপুরে তাঁরা জানালা ভেঙে পালিয়ে যান বলে ধারণা স্থানীয়দের।
তবে ফোরকানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রয়াস মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক ইকরামুল হক। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার রাতে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে ফোরকানের মৃত্যু হয়। তাঁকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়; এটি অপপ্রচার।
ইকরামুল হক আরও বলেন, ফোরকানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অন্য রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে কেন্দ্র থেকে পালিয়ে গেছেন।
এদিকে ফোরকানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং একটি সুরক্ষিত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে কীভাবে একসঙ্গে এত রোগী পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।