ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

যুদ্ধের বাজারে ফের জেগে উঠছে অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টাংস্টেন খনি


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

যুদ্ধের বাজারে ফের জেগে উঠছে অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টাংস্টেন খনি
ডলফিন মাইন/সংগৃহীত

যুদ্ধের বাজারে ফের জেগে উঠছে অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টাংস্টেন খনি

অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত ডলফিন মাইন আবারও টাংস্টেন উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে একের পর এক যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সময়েই গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর খনিটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে টাংস্টেনের চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এ ধাতুর বাজার আরও চাঙ্গা হবে।

ডলফিন মাইনকে বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টাংস্টেন অত্যন্ত শক্ত ও তাপসহনশীল ধাতু। সামরিক খাতে এটি বর্ম-ভেদী গোলাবারুদ, সাঁজোয়া যান এবং বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই খনির কার্যক্রমের ওঠানামা দেখা গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির চাহিদা মেটাতে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইন চালু করা হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর টাংস্টেনের বাজারে পরিবর্তন এলে ১৯২০ সালের দিকে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে ১৯৩৮ সালে আবারও খনিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময় সামরিক চাহিদা বাড়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে খনিটি চালু ও বন্ধ হয়েছে।

১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর বিশ্বে উত্তেজনা কমতে থাকলে খনিটির কার্যক্রম প্রায় স্থায়ীভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় তিন দশক ধরে খনির খোলা গর্তে পানি জমে ছিল।

তবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খনিটি পুনরায় চালুর কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে ডলফিন মাইনে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। সেপ্টেম্বর থেকে মাটির নিচে থাকা আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

টাংস্টেনের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে চীনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে টাংস্টেন উৎপাদনের বড় অংশই চীনের নিয়ন্ত্রণে। চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজছে।

এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কাজাখস্তানের একটি বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন মজুত থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও টাংস্টেন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবরের মধ্যে দেশটি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতায় টাংস্টেনের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। আর সেই সুযোগেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন মাইন আবারও আন্তর্জাতিক খনিজ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

বিষয় : অস্ট্রেলিয়া

RTN News

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


যুদ্ধের বাজারে ফের জেগে উঠছে অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টাংস্টেন খনি

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুদ্ধের বাজারে ফের জেগে উঠছে অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টাংস্টেন খনি

অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত ডলফিন মাইন আবারও টাংস্টেন উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে একের পর এক যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সময়েই গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর খনিটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে টাংস্টেনের চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এ ধাতুর বাজার আরও চাঙ্গা হবে।

ডলফিন মাইনকে বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টাংস্টেন অত্যন্ত শক্ত ও তাপসহনশীল ধাতু। সামরিক খাতে এটি বর্ম-ভেদী গোলাবারুদ, সাঁজোয়া যান এবং বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই খনির কার্যক্রমের ওঠানামা দেখা গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির চাহিদা মেটাতে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইন চালু করা হয়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর টাংস্টেনের বাজারে পরিবর্তন এলে ১৯২০ সালের দিকে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে ১৯৩৮ সালে আবারও খনিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময় সামরিক চাহিদা বাড়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে খনিটি চালু ও বন্ধ হয়েছে।

১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর বিশ্বে উত্তেজনা কমতে থাকলে খনিটির কার্যক্রম প্রায় স্থায়ীভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় তিন দশক ধরে খনির খোলা গর্তে পানি জমে ছিল।

তবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খনিটি পুনরায় চালুর কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ২০২৬ সালে এসে ডলফিন মাইনে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। সেপ্টেম্বর থেকে মাটির নিচে থাকা আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

টাংস্টেনের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে চীনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে টাংস্টেন উৎপাদনের বড় অংশই চীনের নিয়ন্ত্রণে। চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজছে।

এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও এগিয়ে এসেছে। সম্প্রতি কাজাখস্তানের একটি বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন মজুত থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও টাংস্টেন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবরের মধ্যে দেশটি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতায় টাংস্টেনের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। আর সেই সুযোগেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন মাইন আবারও আন্তর্জাতিক খনিজ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
যুদ্ধের বাজারে ফের জেগে উঠছে অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টাংস্টেন খনি
0:00 0:00
1.0x