ঢাকা    বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
RTN News

নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্ত


প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্ত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদলের দুই পক্ষের নেতাকর্মী সংগৃহীত

নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্ত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ কয়েক দফায় গড়ায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত। এতে দুই সাংবাদিকসহ ছাত্রদলের দুই পক্ষের অন্তত ৯ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সাব্বির হোসেন শান্তর পক্ষের বহিরাগত কর্মীরা হলে ঢুকে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সালাম হলের কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন কক্ষেও ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে সাব্বিরের অনুসারীদের ধাওয়া দেন। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতদের মধ্যে ১৫তম ব্যাচের শামিম হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম হাসান; ১৭তম ব্যাচের সোহাগ চাকমা, মাহমুদুল হাসান অন্তর ও কাইফ হাসান; ১৮তম ব্যাচের জহির হোসেন ও আনিছুর রহমান সিফাত; এবং ১৯তম ব্যাচের সামিউল ইসলামের নাম জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবিএস রাসেল বলেন, সংঘর্ষের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেরা মারামারি করেছে। এ ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আহত ব্যক্তিরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের একটি দল ক্যাম্পাসে রয়েছে।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও রাজিব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটনায় দুই ছাত্র ও একজন বহিরাগত জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে তাঁরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ভাষাশহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ ও ১৮ আগস্টের ঘটনাগুলো তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোবিপ্রবির উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

বিষয় : সংঘর্ষ

RTN News

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্ত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ কয়েক দফায় গড়ায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত। এতে দুই সাংবাদিকসহ ছাত্রদলের দুই পক্ষের অন্তত ৯ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সাব্বির হোসেন শান্তর পক্ষের বহিরাগত কর্মীরা হলে ঢুকে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সালাম হলের কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন কক্ষেও ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে সাব্বিরের অনুসারীদের ধাওয়া দেন। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতদের মধ্যে ১৫তম ব্যাচের শামিম হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম হাসান; ১৭তম ব্যাচের সোহাগ চাকমা, মাহমুদুল হাসান অন্তর ও কাইফ হাসান; ১৮তম ব্যাচের জহির হোসেন ও আনিছুর রহমান সিফাত; এবং ১৯তম ব্যাচের সামিউল ইসলামের নাম জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবিএস রাসেল বলেন, সংঘর্ষের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেরা মারামারি করেছে। এ ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আহত ব্যক্তিরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের একটি দল ক্যাম্পাসে রয়েছে।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও রাজিব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটনায় দুই ছাত্র ও একজন বহিরাগত জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে তাঁরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।

এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ভাষাশহীদ আব্দুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ ও ১৮ আগস্টের ঘটনাগুলো তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোবিপ্রবির উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি বিলুপ্ত
0:00 0:00
1.0x