ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের ভেতরের নিচু এলাকাগুলোকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে শিমরাইলে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ পাম্প হাউস। প্রধান নিষ্কাশন খাল হয়ে পাম্প পর্যন্ত পানি যাওয়ার কথা। সেখান থেকে সেচ দিয়ে পানি ফেলা হবে শীতলক্ষ্যায়। তবে ঝোপঝাড়, ময়লা আবর্জনা ও পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য এমনভাবে জমে আছে যে, খাল দিয়ে পানি ঠিকমতো প্রবাহিত হতে পারছে না। এটি যে একটি খাল অনেক স্থানে প্রথম দেখায় তা চেনাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে ডিএনডি বাঁধের ভেতরের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী পশ্চিমপাড়া, উত্তরপাড়া, কাশেপাড়া, জালকুড়ি মধ্যপাড়া, উত্তরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, পাঠানটুলী, তুষারধারা, গিরিধারা, লামাপাড়া, মিজমিজি দক্ষিণপাড়া, সিআইখোলা, হাজীনগর, আদর্শনগরসহ নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।
গতকাল বুধবার সরেজমিন ডিএনডি বাঁধের ভেতরের হিরাঝিল পাইনাদি নতুন মহল্লা ও ধনুহাজী এলাকায় প্রধান পানি নিষ্কাশন খালে ময়লা আবর্জনা জমাট বেঁধে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে। ডিএনডি প্রজেক্টের শিমরাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ পাম্প হাউজ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ খালজুড়ে এ অবস্থা দেখা গেছে। ময়লা আবর্জনা এমনভাবে ভরে আছে যে খালটি চেনাই যায় না। এই দেড় কিলোমিটার এলাকায় খালের দুপাশে রয়েছে অন্তত ৮টি বাজার। সেগুলো থেকে খালে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য ফেলা হয়। অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিপুল থেকে আব্দুল আলীরপুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কংস নদীও ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। সেখানেও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দীর্ঘদিন। এটি দিয়ে ডিএনডির প্রধান নিষ্কাশন খালে পানি যাওয়ার কথা। ডিএনডি প্রজেক্টের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ আহমেদ বলেন, ডিএনডির প্রজেক্টের এ খাল ও কংস নদী এখন আর আমরা দেখি না। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশন এটি দেখবে।
হিরাঝিলের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবস্থা দেখে মনে হয় না এটা খাল। ঝোপঝাড় মনে হয়। সেচ পাম্প হাউজের কাছে পানি ঠিকমতো যেতে পারছে না। হিরাঝিল এলাকার বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে ডিএনডির কোনো কাজকর্ম করতে কেউ দেখছে না। মার্কেটের দোকান মালিকরা ডিএনডি খালঘেঁষে দোকানপাট বসিয়েছেন। সব বর্জ্য, গরুর ভুড়ি, পলিথিনসহ নানা ময়লা আবর্জনা এই প্রধান পানি নিষ্কাশন খালে ফেলছে। এতে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপশি পরিবেশও দূষিত করছে। এ খাল ও কংস নদী খনন এবং ময়লা আবর্জনামুক্ত করলে ডিএনডির সেচ পাম্পে কোনো প্রকার বাঁধা ছাড়াই পানি আসতে পারবে। ফলে সেচ খালের সেচ পাম্প হাউজ থেকে পানি সেচ করে শীতলক্ষ্যায় ফেলতে পারবে এবং ডিএনডির নিচু এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট আর পানিতে ডুববে না বলে জানান মনিরুল ইসলাম রবি। ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিএনডির সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মো. মেহেদী হাসান বলেন, নিয়মিত ডিএনডি থেকে পানি সেচ করে শীতলক্ষ্যা ফেলা হচ্ছে। তবে খালে ময়লা আবর্জনা থাকলে পানি সেচ পাম্পে আসতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আমরা কয়েকবার খাল পরিষ্কার করেছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডিএনডি বাধের মধ্যে আমাদের সিটি করপোরেশনের যতগুলো খালে আবর্জনা রয়েছে সব পরিষ্কার করা হবে। যেখানে খনন করা দরকার আমরা তা করব।