যশোরে লাঠি-পাইপ হাতে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ, "আত্মরক্ষার প্রস্তুতি" বলছেন নেতাকর্মীরা
ঢাকায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই সতর্কতা, শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো কর্মসূচি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বুধবার বিকেলে শহরের জিরো পয়েন্ট কোর্ট মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন জামায়াত, এনসিপিসহ জোটের শীর্ষ নেতাকর্মীরা। কোদালের আছাড়, লাঠি-পাইপে পতাকা বেঁধে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন তারা, উত্তেজনা ছড়ালেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়।
কেন লাঠি হাতে
বিকেল তিনটা থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিলসহকারে সমাবেশস্থলে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। কারও হাতে লাঠি, কোদালের আছাড়, পাইপ, কারও কারও সেগুলোতে বাঁধা জাতীয় পতাকা। তরুণ থেকে বৃদ্ধ — সব বয়সীর হাতেই দেখা গেছে এসব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মী জানান, আগের দিন ঢাকায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে যশোরেও একই ধরনের হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে তারা লাঠি নিয়ে এসেছেন।
সমাবেশে যা বলা হলো
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন, তবে ভারী বৃষ্টিতে একপর্যায়ে জনসমাগম ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বক্তব্য শুরু করেন প্রধান অতিথি জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সাংসদ অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না, বরং তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম ছিল। তার দাবি, আন্দোলনে প্রায় ১৬০০ তরুণ প্রাণ দিয়েছেন এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের সংগ্রামে বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, নির্যাতন ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন।
গোলাম রসুল আরও অভিযোগ করেন, শহীদদের আত্মত্যাগের দুই বছর পার হলেও গণহত্যার দায়ীদের বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি, এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। তার মতে, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা নিয়ে অভ্যুত্থান হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন নেই — বরং বৈষম্য, দলীয়করণ ও দুর্নীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান ও জেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান। পরে ভারী বৃষ্টির মধ্যেই গণমিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার মোড়ে গিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি।
একই সন্ধ্যায় বিএনপির অনুষ্ঠান
একই দিন সন্ধ্যায় শহরের টাউন হল ময়দানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। তার আগে জামায়াতের কর্মসূচিতে লাঠি-পাইপে পতাকা বেঁধে অংশগ্রহণের ঘটনা ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়, যদিও অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। পরিস্থিতি সামলাতে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রশাসন ও দলীয় বক্তব্য
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাসুম খান জানান, সমাবেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে কেউ কেউ লাঠিতে পতাকা বেঁধেছিলেন — বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা হবে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, লাঠি বা পাইপ আনা কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল না; কারা এসব নিয়ে এসেছিলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।