ঢাকা    বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
RTN News

চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে নৌবহর বাড়াচ্ছে ভারত, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ


প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে নৌবহর বাড়াচ্ছে ভারত, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ
ভারতীয় নৌবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে নৌবহর বাড়াচ্ছে ভারত, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ

চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার জবাবে নিজেদের নৌবাহিনী শক্তিশালী করার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নয়াদিল্লি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহর গড়ে তুলছে চীন। একই সঙ্গে পাকিস্তানও চীনের তৈরি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে। এই পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরালো করতে চাইছে ভারত।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি মাসেই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, এসব জাহাজ দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার বড় উদাহরণ এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ।

আইএনএস মহেন্দ্রগিরির নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। জাহাজটি নির্মাণ করেছে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স, যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতির প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ। একই শ্রেণির সপ্তম জাহাজ বিন্ধ্যাগিরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ কর্মসূচির আওতায় আরও সাত থেকে আটটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজসহ সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণের গতি বজায় থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কৌশলগত বাস্তবতায় ভারত মহাসাগরে স্থায়ীভাবে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এর জন্য যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জাহাজও দরকার হবে।

এই লক্ষ্য পূরণে ভারত যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে। শুধু গত দেড় মাসেই দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পাঁচটি নতুন জাহাজ কমিশন করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষায়িত ইস্পাত ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকরণের জন্য এখনও আমদানিনির্ভর ভারত। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পুরোনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামোও লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।

বিষয় : চীন ভারত পাকিস্তান

RTN News

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে নৌবহর বাড়াচ্ছে ভারত, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে নৌবহর বাড়াচ্ছে ভারত, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ

চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার জবাবে নিজেদের নৌবাহিনী শক্তিশালী করার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নয়াদিল্লি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহর গড়ে তুলছে চীন। একই সঙ্গে পাকিস্তানও চীনের তৈরি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করেছে। এই পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি আরও জোরালো করতে চাইছে ভারত।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি মাসেই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, এসব জাহাজ দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার বড় উদাহরণ এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ।

আইএনএস মহেন্দ্রগিরির নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। জাহাজটি নির্মাণ করেছে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স, যেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের প্রতিরক্ষা খাতে অগ্রগতির প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ যুদ্ধজাহাজ। একই শ্রেণির সপ্তম জাহাজ বিন্ধ্যাগিরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ কর্মসূচির আওতায় আরও সাত থেকে আটটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে প্রায় ১৫০টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজসহ সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ নির্মাণাধীন।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্র বলেন, দেশীয়ভাবে জাহাজ নির্মাণের গতি বজায় থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কৌশলগত বাস্তবতায় ভারত মহাসাগরে স্থায়ীভাবে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌবহর প্রয়োজন। তবে এর জন্য যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জাহাজও দরকার হবে।

এই লক্ষ্য পূরণে ভারত যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হচ্ছে। শুধু গত দেড় মাসেই দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত পাঁচটি নতুন জাহাজ কমিশন করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চাভিলাষী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষায়িত ইস্পাত ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপকরণের জন্য এখনও আমদানিনির্ভর ভারত। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পুরোনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামোও লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে নৌবহর বাড়াচ্ছে ভারত, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজ
0:00 0:00
1.0x