‘দ্রোহযাত্রা’ থেকেই এক দফার ডাক, গণঅভ্যুত্থানের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ
আবু সাঈদের আত্মত্যাগ থেকে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান—আন্দোলনের ভেতরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন ছাত্রনেতা রাফিকুজ্জামান ফরিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বিস্তৃত জনসম্পৃক্ত আন্দোলন, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং প্রাণহানি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে যুক্ত ছিল। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে তিনি গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্র ফ্রন্টের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি সাজু বাসফোরই আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তিনি হত্যা মামলারও একজন সাক্ষী।
রাফিকুজ্জামান ফরিদের বর্ণনায়, ১৯ জুলাই কারফিউ জারির পর ২৬ জুলাই সাংস্কৃতিক কর্মীদের গানের মিছিল এবং বাম গণতান্ত্রিক জোটের শোক মিছিল আন্দোলনে নতুন গতি আনে। এরপর বিভিন্ন ছাত্র, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, শ্রমিক ও নারী সংগঠনের উদ্যোগে প্রথমে ‘শোকযাত্রা’ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘দ্রোহযাত্রা’ রাখা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনারে শেষ হওয়া ‘দ্রোহযাত্রা’য় সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়। তিনি দাবি করেন, এরপর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং ৩ আগস্ট ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের ডাক ও ৪ আগস্ট ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
তিনি আরও বলেন, ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করা হলেও পরদিন ছাত্র-জনতা তা অমান্য করে রাজপথে নেমে আসে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঘটনা ঘটে।
রাফিকুজ্জামান ফরিদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি হলেও এর চেতনা রক্ষার সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ও জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলো রাফিকুজ্জামান ফরিদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা ও অবস্থান থাকতে পারে।