দিল্লিতে তরুণদের ঢল, মোদির সামনে নতুন ধরনের আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ
পুলিশি ধরপাকড়ের পরও যন্তর-মন্তরে উপচে পড়া ভিড়; শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে বাড়ছে সংহতি
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশের কঠোর অবস্থান ও ধরপাকড়ের পরদিনই মঙ্গলবার যন্তর-মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ এবং অভিভাবকের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বার্থভিত্তিক আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছেন।
সোমবারের সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের পরও মঙ্গলবার বিকেল থেকে যন্তর-মন্তরে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। একাধিক ব্যারিকেড, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন থাকলেও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমেনি। অনেক শিক্ষার্থীকে শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়েই বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভে শুধু দিল্লির নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুলিশি অভিযানের ভিডিও দেখে দিল্লিতে আসেন বলে জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণ-তরুণী, চাকরিপ্রত্যাশী এবং পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও রয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সংস্কার নিশ্চিত করা। এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন বাড়ছে। নেতৃত্বহীন এ আন্দোলনে শিক্ষা ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অবস্থানও অনেক তরুণকে অনুপ্রাণিত করছে।
সোমবারের বিক্ষোভে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের দাবি করা হলেও ক্ষমতাসীন বিজেপির একটি অংশ এটিকে দেশের পুরো যুবসমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না বলে মন্তব্য করেছে। তবে দলটির ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন, পরীক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ ভোটভিত্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রথমদিকে কংগ্রেস এই আন্দোলনে সরাসরি সক্রিয় না থাকলেও পরে সোনিয়া গান্ধীর পরামর্শে দলটি সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানায় এবং শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন কিংবা কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনের মতো বড় বিক্ষোভ দেখা গেলেও সেগুলো মূলত নির্দিষ্ট ইস্যু বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ছিল। বর্তমান শিক্ষার্থী আন্দোলন তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত সামাজিক সমর্থন পাচ্ছে, যা সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
যদিও আন্দোলনটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে আগামী দিনে এর বিস্তার কতটা হবে এবং সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর দেশজুড়ে।