গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্তের শঙ্কা, ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা উপত্যকার বড় একটি অংশকে বাকি এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে দ্রুতগতিতে মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে ইসরায়েল। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, যা গাজার মোট দৈর্ঘ্যের অর্ধেকেরও বেশি। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, অস্থায়ী নিরাপত্তা রেখা ভবিষ্যতে স্থায়ী বিভাজনরেখায় পরিণত হতে পারে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে নির্মিত এই বাঁধটি গাজার একাধিক ফিলিস্তিনি জনপদের ওপর দিয়ে গেছে, যেগুলোর অনেকটাই আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে ধ্বংস হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর এই ভৌত বাধা নির্মাণ করা হয়েছে। গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় এই রেখাকে ইসরায়েলি সেনাদের পিছু হটার অস্থায়ী সীমারেখা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় এটি স্থায়ী সীমান্তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, বাঁধের পাশাপাশি ইয়েলো লাইনের চারপাশে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বলয়ও গড়ে তোলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সীমারেখার কাছে গেলে বা অতিক্রমের চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-জাহরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ২৯৩ জনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, শিন বেতের সঙ্গে যৌথ অভিযানে হামাসের গাজা সিটি ব্রিগেডের অপারেশন বিভাগের প্রধান আধাম ইব্রাহিম শাবান নাসমানকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে আটক ফিলিস্তিনি চিকিৎসকদের মুক্তি এবং গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অবিলম্বে চিকিৎসকদের মুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।