ঢাকা    সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
RTN News

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, ৫১ জনের মৃত্যু


প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, ৫১ জনের মৃত্যু
বন্যায় ধসে পড়েছে একমাত্র সম্বল মাটির ঘরটি। তার মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা। গতকাল রোববার দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়ার ভেলুয়াপাড়া থেকে তোলা।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, মৃত্যু ৫১

বিশেষ প্রতিনিধি

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ধারাবাহিক ভূমিধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। ঘরবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি।

এদিকে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস। সোমবারও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় আরও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌর এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হলেও সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও নিজ বাড়ি কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬ উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বর্তমানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন।

কক্সবাজারে ১০ উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৩৯ হাজার ৫০৬ পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। জেলায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বান্দরবানে সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। সেখানে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫০০। এ জেলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটিতে নয় উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪ এবং মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। খাগড়াছড়িতে নয় উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৩৪ হাজার ৪১৭ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৌলভীবাজারে পাঁচ উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকা প্লাবিত হয়ে ২৬ হাজার ৫৪৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ২৮ হাজার ১৪০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরকার সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল দিয়েছে। তবে হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ প্রায় ২৮ টাকা এবং পরিবারপ্রতি প্রায় ১০৬ টাকা হওয়ায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বন্যার বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১২ জেলায় ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টরের বেশি ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর আউশ ধান এবং প্রায় ২ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাট, মরিচ, আদা, হলুদ, পানের বরজ ও বিভিন্ন ফলের বাগানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রামেই সবচেয়ে বেশি কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ১২ হাজার ২৫১টি পুকুর ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৪ হাজার ১০৬ হেক্টর জলাশয় এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০৯ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ২৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ২৩টি গরু, ৮৪টি ছাগল এবং প্রায় ৪৩ হাজার মুরগি মারা গেছে। বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্যও নষ্ট হয়েছে।

এদিকে বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে এসব সড়ক পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। যেখানে বীজ বা চারার সংকট দেখা দেবে, সেখানে সরকার চারা সরবরাহ করবে। তবে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : বন্যা

RTN News

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, ৫১ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, মৃত্যু ৫১

বিশেষ প্রতিনিধি

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ধারাবাহিক ভূমিধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। ঘরবাড়ি, সড়ক, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি।

এদিকে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস। সোমবারও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় আরও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন ও ১১টি পৌর এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হলেও সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও নিজ বাড়ি কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। জেলার ১৬ উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বর্তমানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন।

কক্সবাজারে ১০ উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৩৯ হাজার ৫০৬ পরিবার পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। জেলায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বান্দরবানে সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। সেখানে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫০০। এ জেলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটিতে নয় উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪ এবং মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। খাগড়াছড়িতে নয় উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ৩৪ হাজার ৪১৭ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৌলভীবাজারে পাঁচ উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকা প্লাবিত হয়ে ২৬ হাজার ৫৪৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ২৮ হাজার ১৪০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরকার সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল দিয়েছে। তবে হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ প্রায় ২৮ টাকা এবং পরিবারপ্রতি প্রায় ১০৬ টাকা হওয়ায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বন্যার বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১২ জেলায় ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টরের বেশি ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর আউশ ধান এবং প্রায় ২ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাট, মরিচ, আদা, হলুদ, পানের বরজ ও বিভিন্ন ফলের বাগানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রামেই সবচেয়ে বেশি কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ১২ হাজার ২৫১টি পুকুর ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৪ হাজার ১০৬ হেক্টর জলাশয় এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০৯ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ২৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ২৩টি গরু, ৮৪টি ছাগল এবং প্রায় ৪৩ হাজার মুরগি মারা গেছে। বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্যও নষ্ট হয়েছে।

এদিকে বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে এসব সড়ক পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। যেখানে বীজ বা চারার সংকট দেখা দেবে, সেখানে সরকার চারা সরবরাহ করবে। তবে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় মানবিক বিপর্যয়, ৫১ জনের মৃত্যু
0:00 0:00
1.0x