ঢাকা    শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
RTN News

পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা



পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা

পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। একদিন আগে যেখানে ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল, সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে পাঁচটিতে নেমেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তর ও উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার ও রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার, আর খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির প্রবণতাই আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের প্রায় সব এলাকাতেই টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। মতিঝিল, নয়াপল্টন, মিরপুর, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিষয় : ভারী বৃষ্টি বন্যা বিপৎসীমা

RTN News

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। একদিন আগে যেখানে ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল, সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে পাঁচটিতে নেমেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তর ও উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার ও রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর পানি মৌলভীবাজার রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার, আর খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির প্রবণতাই আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের প্রায় সব এলাকাতেই টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। মতিঝিল, নয়াপল্টন, মিরপুর, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।


RTN News

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির শঙ্কায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা
0:00 0:00
1.0x