টানা ভারী বর্ষণে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা ১৯৮৩ সালের পর গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অতিবৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান যোগাযোগ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নগরের নিচু এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। বাদুরতলা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, পাঠানটুলী ও মোহরাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। হাটহাজারী সড়কের কয়েকটি স্থানে কোমরসমান পানি জমে যায়।
ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর পানি উঠে যায়। এতে প্রায় ৬৫০ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ষোলশহর স্টেশনে প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর যাত্রা বাতিল করা হয়। যাত্রীদের টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমেও। উত্তাল সাগরের কারণে বহির্নোঙরে অবস্থান করা ৪৩টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে জেটির কার্যক্রম ও কাস্টমসের শুল্কায়ন স্বাভাবিক রয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকায় অবতরণ বা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ২০টি দল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যে খাল-নালার পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং জোয়ারের পানির সঙ্গে ভারী বর্ষণ যুক্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু অতিমাত্রায় সক্রিয় থাকায় এবং নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, নগরের পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে দেয়াল ধসে শফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার দুই শিশু সন্তান ও শাশুড়ি।
চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন দাবি করেছেন, চলতি বর্ষায় নগরের জলাবদ্ধতা আগের তুলনায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।