নুজসাত মৃত্যু: সাকিনের বাবার দাবি—‘ভিউ বাড়াতে মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সঠিক তদন্ত হোক’
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার সাকিনের বাবা দাবি করেছেন, ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এক ফেসবুক পোস্টে সাকিনের বাবা বলেন, নিজের পড়াশোনা শেষ করে রাত তিনটার পর ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছু হালকা খাবার খাওয়ার পর সাকিন ফেসবুকে ঢুকে নুজসাতকে অনলাইনে দেখতে পায়। এর আগে নুজসাতের দুই বান্ধবী জীববিজ্ঞানের একটি অধ্যায় পড়ানোর বিষয়ে তাকে মেসেজ দিয়েছিলেন। সেই সূত্র ধরে সাকিন নুজসাতকে অনলাইনে নক করে এবং ইন্টারনেট ও পর্যাপ্ত মিনিট থাকায় প্রায় ৪৯ মিনিট জীববিজ্ঞানের একটি অধ্যায় পড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাকিনের এই দাবির সত্যতা প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। ওই কথোপকথনের তথ্য উদ্ধার করা কঠিন নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাকিনের বাবা আরও দাবি করেন, ২২ জুন নুজসাতের মৃত্যুর দিন তিন থেকে চার দফায় মোট ৪৯ সেকেন্ড তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। তবে নর্থভিউ হোটেলের লিফট থেকে নবম তলায় ওঠার পর নুজসাতের দীর্ঘ সময় চলাফেরা ও ফোনে কথা বলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, হোটেলের ছাদে বসেও নুজসাত দীর্ঘ সময় চ্যাটিং করেছিল। ওই কথোপকথন কার সঙ্গে হয়েছিল, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
সাকিনের বাবা বলেন, নুজসাত তার ছেলের কাছে পড়ত। তবে ব্যাচের বাইরে তাকে আলাদাভাবে পড়ানো হয়নি। মেয়েটি সাকিনের প্রতি দুর্বল ছিল বলে আগে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করেছিল এবং পরে মায়ের অনুরোধে আবার পড়ানো শুরু হয়। তবে ফেব্রুয়ারি মাসের পর সাকিন পুরো ব্যাচই বাদ দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নুজসাতের মৃত্যুর ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাক। আমার ছেলে জড়িত থাকলে সেও শাস্তির আওতায় আসুক। তবে ভিউ বা রিচ বাড়ানোর জন্য যাচাইহীন, মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ করছি।”
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন রংপুর নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজসাত জাহানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা নজরুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।