ঢাকা    সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে এখনো মিলছে জীবনের সন্ধান, উদ্ধার ৩৩


প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে এখনো মিলছে জীবনের সন্ধান, উদ্ধার ৩৩
১১ বছর বয়সী মোইসেসকে কয়েকদিন ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে |সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকদিন পরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১১ বছর বয়সী দুই শিশু, যাদের পৃথক দুটি ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়।

তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় জীবিত উদ্ধারের আশা সময়ের সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর মতে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

রোববার পর্যন্ত ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ একে ভেনিজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজে বের করতে অনেক পরিবার খালি হাতে কিংবা সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছেন। তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের শব্দ শোনা গেলেও ভারী কংক্রিট সরানোর মতো যন্ত্রপাতি তাদের নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকারীরা আশা ছাড়ছেন না। জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা বলেন, বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী এখনো জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব, তবে ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’।

এদিকে, ১১ বছর বয়সী মোইসেস নামের এক শিশুকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানায়, শিশুটি প্রায় তিন মিটার গভীরে চাপা পড়েছিল। উদ্ধারকারীরা টানা ছয় ঘণ্টা সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কারাবায়েদা শহরে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তার কিশোর ছেলেকেও জীবিত উদ্ধার করেছে।

কর্মকর্তাদের মতে, উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলের কারাবায়েদা এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনো বহু ভবনে তল্লাশি চালানো বাকি রয়েছে এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

একের পর এক আফটারশক উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। অনেকের অভিযোগ, সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ধীরগতির এবং পর্যাপ্ত নয়।

হাজার হাজার মানুষ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছেড়ে গাড়িতে কিংবা খোলা স্থানে রাত কাটাচ্ছেন। কারাবায়েদার একটি গলফ কোর্স বর্তমানে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে মেক্সিকো, স্পেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক কর্মকর্তা টম ফ্লেচার জানান, বর্তমানে ৩৯টি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সেখানে কাজ করছে। প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মীর সঙ্গে রয়েছে ১১১টি প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং অত্যাধুনিক ক্ষুদ্র ড্রোন।

সূত্র: বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স

বিষয় : ভূমিকম্প ভেনিজুয়েলা

আর টি এন নিউজ ২৪

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে এখনো মিলছে জীবনের সন্ধান, উদ্ধার ৩৩

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভেনিজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকদিন পরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১১ বছর বয়সী দুই শিশু, যাদের পৃথক দুটি ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়।

তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় জীবিত উদ্ধারের আশা সময়ের সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর মতে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

রোববার পর্যন্ত ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ একে ভেনিজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খুঁজে বের করতে অনেক পরিবার খালি হাতে কিংবা সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছেন। তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের শব্দ শোনা গেলেও ভারী কংক্রিট সরানোর মতো যন্ত্রপাতি তাদের নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকারীরা আশা ছাড়ছেন না। জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোল্লা বলেন, বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী এখনো জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব, তবে ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’।

এদিকে, ১১ বছর বয়সী মোইসেস নামের এক শিশুকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানায়, শিশুটি প্রায় তিন মিটার গভীরে চাপা পড়েছিল। উদ্ধারকারীরা টানা ছয় ঘণ্টা সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কারাবায়েদা শহরে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তার কিশোর ছেলেকেও জীবিত উদ্ধার করেছে।

কর্মকর্তাদের মতে, উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলের কারাবায়েদা এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনো বহু ভবনে তল্লাশি চালানো বাকি রয়েছে এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

একের পর এক আফটারশক উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। অনেকের অভিযোগ, সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম ধীরগতির এবং পর্যাপ্ত নয়।

হাজার হাজার মানুষ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছেড়ে গাড়িতে কিংবা খোলা স্থানে রাত কাটাচ্ছেন। কারাবায়েদার একটি গলফ কোর্স বর্তমানে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে মেক্সিকো, স্পেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক কর্মকর্তা টম ফ্লেচার জানান, বর্তমানে ৩৯টি আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সেখানে কাজ করছে। প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মীর সঙ্গে রয়েছে ১১১টি প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং অত্যাধুনিক ক্ষুদ্র ড্রোন।

সূত্র: বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স


আর টি এন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে এখনো মিলছে জীবনের সন্ধান, উদ্ধার ৩৩
0:00 0:00
1.0x