ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার আবু তালহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুর রহমান ওরফে মো. মিলনকে (২৮) আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিলনকে গ্রেপ্তার করে।
তবে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর তালহা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর মিলন কারাগারেই ছিলেন বলে জানা যায়। সে সময় ওয়ারী থানা-পুলিশ তাকে এবং বেল্লাল হোসেন ওরফে সবুজকে কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে তালহার মানিব্যাগসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিলেন।
২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর সকালে রাজধানীর টিকাটুলি এলাকায় ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ২১ বছর বয়সী আবু তালহা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সয়ের শিক্ষার্থী তালহা নিজের ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে এগিয়ে গেলে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকায় ফিরে আবারও ছিনতাই ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন মিলন। তবে তিনি কবে এবং কীভাবে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আবু তালহার বাবা আবু রিয়াজ মো. নূর উদ্দিন খন্দকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মামলার শুনানিতে মিলনসহ আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর মামলার শুনানির আর কোনো নোটিশ পাননি এবং তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন।