ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশইনের আশঙ্কায় ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও স্বেচ্ছায় পাহারায় অংশ নিয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে বিজিবির কড়া নজরদারি ও টহল কার্যক্রম দেখা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি বৃদ্ধির পর সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১২ ও ১৩ জুন ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর ও ইসলামপুর থানা পুলিশ মোট ৬০ জন বাংলাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মুম্বাই ও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাদের উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানাতে এলাকাবাসীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রত্নাই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, অবৈধভাবে কাউকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দিতে তারা বিজিবির সঙ্গে নজরদারিতে অংশ নিচ্ছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারায় অংশ নিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।