পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় এবং লোকসভায় দলীয় সংসদীয় গোষ্ঠীতে নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে পড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)।
বুধবার সকালে দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগের দিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
তৃণমূলের একটি সূত্র এই বৈঠককে 'অত্যন্ত ইতিবাচক' বলে দাবি করেছে। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বৈঠকে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'-কে জাতীয় স্তরে আরও শক্তিশালী করা এবং বিজেপি-বিরোধী দলগুলোকে এক জোটে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
**দলে বিদ্রোহ, চাপে মমতা**
তৃণমূলের ভেতরে সংকট এখন চরমে। সম্প্রতি দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলী ঘোষ দস্তিদার ও যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের নেতৃত্বে লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা সংসদীয় ব্লক গঠনের আবেদন জানিয়েছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে সমর্থন দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
**২৮ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি**
১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে দল ভেঙে তৃণমূল গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই মমতাই এখন দল ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রক্ষায় পুনরায় গান্ধী পরিবারের শরণ নিয়েছেন — যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক নাটকীয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য ও জাতীয় — উভয় স্তরে কোণঠাসা হয়ে পড়া মমতা এখন সোনিয়া-রাহুলের সমর্থনের উপরই ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।