‘কে বেশি নির্যাতিত, কার ত্যাগ বেশি’—তর্কের জেরে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতা পিটুনির শিকার
নারায়ণগঞ্জে গত ১৬ বছরে কে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন এবং কার রাজনৈতিক ত্যাগ বেশি—এ নিয়ে তর্কের জেরে জেলা বিএনপির এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওকিল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। হামলায় জড়িতরা জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষমেলা, বইমেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, উদ্বোধনের পর ফটোসেশনের সময় মশিউর রহমান রনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, গত ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে অনেককে দেখা না গেলেও এখন ছবি তোলার সময় তারা সামনে চলে এসেছেন। এ সময় ওকিল উদ্দিন পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, রনিও গত ১৬ বছর রাজপথে ছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
পরে দলীয় নেতারা উভয়পক্ষকে সমঝোতা করিয়ে দেন। তবে ওকিল উদ্দিনের দাবি, কিছুক্ষণ পর জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, “প্রথমে তর্ক হলেও পরে নেতারা বিষয়টি মিটমাট করে দেন। কিন্তু পরে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করব।”
অন্যদিকে যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি বলেন, “আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে কিছু অতি উৎসাহী কর্মী পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার আকস্মিকতায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলার বিভিন্ন স্টলে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।