ঢাকা    রোববার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আর টি এন নিউজ ২৪

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি


প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছবি: বাসস

শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর বহুল আলোচিত প্রবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা ও ইতিহাসবিদসহ বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, এই নিবন্ধ শিক্ষার্থীদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

১৯৭২ সালে প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা দিবসে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’তেও এটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

আগামীকাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাঁর জীবন, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং রাষ্ট্রগঠনে অবদান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবেই ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে।

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রবন্ধটিকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পাঠ্যসূচিতে থাকা উচিত।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনও একই মত দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এমন দলিল পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বিকৃত বা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রবন্ধটি তথ্যসমৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। এটি ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুর প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এই লেখায় সুন্দরভাবে উঠে এসেছে, যা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন।

প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেন।

২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসকে প্রবন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে ‘বাঙালির হৃদয়ে রক্তাক্ষরে লেখা দিন’ হিসেবে। লেখায় সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান, বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর আলোকে প্রবন্ধটি রচিত হওয়ায় এটি ইতিহাসচর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার পর জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

বিষয় : তারেক রহমান জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকার পাঠ্যপুস্তক মুক্তিযুদ্ধ

আর টি এন নিউজ ২৪

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর বহুল আলোচিত প্রবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা ও ইতিহাসবিদসহ বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, এই নিবন্ধ শিক্ষার্থীদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

১৯৭২ সালে প্রথম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা দিবসে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’তেও এটি পুনর্মুদ্রিত হয়।

আগামীকাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাঁর জীবন, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং রাষ্ট্রগঠনে অবদান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবেই ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে।

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রবন্ধটিকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পাঠ্যসূচিতে থাকা উচিত।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনও একই মত দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য এমন দলিল পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বিকৃত বা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রবন্ধটি তথ্যসমৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী। এটি ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ’ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শুরুর প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এই লেখায় সুন্দরভাবে উঠে এসেছে, যা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন।

প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেন।

২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসকে প্রবন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে ‘বাঙালির হৃদয়ে রক্তাক্ষরে লেখা দিন’ হিসেবে। লেখায় সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান, বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর আলোকে প্রবন্ধটি রচিত হওয়ায় এটি ইতিহাসচর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার পর জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।


আর টি এন নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবি
0:00 0:00
1.0x