বোরকা পরে হামলা করতে গিয়ে যুবক নিহত, প্রতিশোধে ২০ বাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে ভাড়ায় মারামারি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের পরিবারের নেতৃত্বে শতাধিক সমর্থক এসব হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের টুমচর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে পাঁচ যুবক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত যুবকের নাম মো. তাইজুল সরদার (২০)। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কুলপদ্দি গ্রামের রুস্তম সরদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে কালকিনির আলীনগর ইউনিয়নের কালীনগর গ্রামের আলোচিত মানিক সরদার হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে তাইজুলের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন যুবক বোরকা পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কালকিনির আলীনগর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় যান। তাঁরা সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া করলে অন্যরা পালিয়ে যান। এ সময় তাইজুল স্থানীয়দের হাতে আটক হন। গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার জের ধরে সোমবার ভোররাতে তাইজুলের শতাধিক সমর্থক টুমচর এলাকায় হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল আলীনগন ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘর। হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এতে প্রায় ২০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২২ অক্টোবর সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করতে এসে তাইজুল কালীগঞ্জ বাজারে স্থানীয়দের হাতে আটক হন। পরে গণধোলাইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, বোরকা পরে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এসে তাইজুল স্থানীয়দের হাতে আটক হন এবং গণধোলাইয়ে মারা যান। এ ঘটনার জেরে তাঁর বাড়িসহ প্রায় ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিহত তাইজুলের ভাই অভিযোগ করেন, মিলন সরদার ও আউয়াল সরদার ডেকে নিয়ে তাঁর ভাইকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় তিনি মিলন সরদারসহ অভিযুক্তদের ফাঁসি দাবি করেন। তবে বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।