প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
শাড়ি পরে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, ৬ মিনিটে ট্রায়াল শেষ কবিতার
||
শাড়ি পরে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, ৬ মিনিটে ট্রায়াল শেষ কবিতারভারতের ঝাড়খণ্ডের ২৭ বছর বয়সী কবিতা কুমারীর দৌড়ের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণে শাড়ি পরে খালি পায়ে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড়ের ট্রায়ালে অংশ নিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন।রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা ‘হোম গার্ড’ পদে চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত ১০ মিনিটের সময়সীমার মধ্যে মাত্র ৬ মিনিটেই দৌড় শেষ করেন।তিন বছর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান কবিতার স্বামী দীপক মাহতো। এরপর দুই সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। সংসার চালাতে তিনি ইটভাটায় কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি পরিবারের জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে সরকারি চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেন।কবিতার আর্থিক সামর্থ্য এতটাই সীমিত যে দৌড়ের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় রানিং শু, ট্র্যাকস্যুট বা অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাও সম্ভব ছিল না। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। পুলিশ বা হোম গার্ডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিদিন ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে গ্রামের রাস্তায় দৌড়ানোর অনুশীলন করতেন।অফিসিয়াল নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগে স্থানীয় একটি প্রশিক্ষণ একাডেমির আয়োজিত ট্রায়াল রানে অন্যান্য প্রার্থীর সঙ্গে অংশ নেন কবিতা। শাড়ি পরেই তপ্ত মাটিতে খালি পায়ে দৌড় শুরু করেন তিনি। শারীরিক কষ্ট ও পায়ের ব্যথা উপেক্ষা করে মাত্র ৬ মিনিটে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করেন। তার দৃঢ়তা দেখে উপস্থিত দর্শক ও প্রশিক্ষকরাও বিস্মিত হন।এখন ঝাড়খণ্ড হোম গার্ডের অফিসিয়াল নিয়োগ পরীক্ষার শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কবিতা। আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রামগড় জেলায় এ নিয়োগের মাধ্যমে ২৮৪টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে।নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি বিধবা ও বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্ত নারীদের জন্য অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।কবিতার দৌড়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অনেকে। সন্তান ও পরিবারের জন্য স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তার এই সংগ্রামকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
সূত্র: এনডিটিভি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪