প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
একটি চাকরির পেছনে ১,৪৩০ জন! সরকারি চাকরিতে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র
||
একটি নিয়োগে ২১ লাখ আবেদন, এক পদের বিপরীতে ১ হাজার ৪৩০ প্রার্থীবাংলাদেশের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে। মাত্র ১ হাজার ৪৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি প্রার্থী। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি পদের জন্য লড়বেন প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন।সমাজসেবা অধিদপ্তর ৫২টি ক্যাটাগরিতে এসব পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। গত ২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৭৮টি পদ ছিল অফিস সহায়কের। এসব পদে এসএসসি পাস প্রার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩১২টি ইউনিয়ন সমাজকর্মীসহ শিক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, কারিগরি প্রশিক্ষক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর পদও ছিল।বিপুলসংখ্যক আবেদন এখন নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজনেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ২১ লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে কেন্দ্র, প্রশ্নপত্র, পরীক্ষক ও খাতা মূল্যায়নসহ ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এবার বিপুলসংখ্যক আবেদন পড়েছে। পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং প্রায় দুই মাসের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই নিয়োগে আবেদনকারীর সংখ্যা সাম্প্রতিক কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষার আবেদনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ৫০তম বিসিএসে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার, ৪৯তম বিসিএসে ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি এবং ৪৭তম বিসিএসে ৩ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে শূন্য পদও রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। তবে এই বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মপ্রার্থীর তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরির গতি অনেক ধীর।বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছালেও নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ। ফলে কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের এত বেশি আগ্রহের পেছনে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে নিয়োগের ধীরগতিও বড় কারণ। বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতার প্রভাবেও নতুন চাকরি তৈরির গতি কমেছে।ফলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি নিয়োগে ২১ লাখের বেশি আবেদন পড়ার ঘটনা শুধু সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহের চিত্র নয়; এটি দেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের চাপও তুলে ধরছে।
প্রতিবছর যখন প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বাড়তে থাকা এই কর্মপ্রার্থীদের জন্য নতুন কাজ কতটা তৈরি হচ্ছে?
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪