প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুদ্ধের পর ইরানে বড় সমাবেশ, অস্ত্র প্রশিক্ষণে ৬ লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবী
||
যুদ্ধের পর ইরানে বড় সমাবেশ, অস্ত্র প্রশিক্ষণে ৬ লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবীযুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর ইরানে সরকার আয়োজিত বড় এক সমাবেশে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। গত শুক্রবারের এই সমাবেশটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে এ ধরনের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব।সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সীমিত সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান। এ উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জানফাদায়ে ইরান’, যার অর্থ ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারীরা’।তেহরানের কেন্দ্রীয় সড়কে সামরিক পোশাক পরে মিছিল করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা। কয়েক দিন ধরে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জনগণকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।তেহরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানান, কর্মসূচিতে অংশ নিতে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। প্রশিক্ষণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের হিসাবে, সমাবেশে ৩ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার’ জন্য প্রস্তুত থাকবেন। ইরানের অন্যান্য শহরেও শিগগির একই ধরনের সমাবেশ আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব স্বেচ্ছাসেবী ইরানের শত্রুদের জন্য ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবেন।সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সামরিক কমান্ডার ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পায়ে মাড়ান এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দেন।সমাবেশে সামরিক সরঞ্জামও প্রদর্শন করা হয়। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের সামরিক যান প্রদর্শন করা হয়। ট্রাকের ওপর স্থাপিত মেশিনগানের পাশে নারী রেভল্যুশনারি গার্ড সদস্যদেরও দেখা যায়।এদিকে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও আরও চাপের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দরগুলো ঘিরে সামরিক চাপের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে সংকট আরও গভীর হওয়ার কথা জানিয়েছে দ্য নিউ আরব।যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারিতে ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে বড় ধরনের দেশব্যাপী বিক্ষোভ হয়েছিল। পরে তা আরও বিস্তৃত অসন্তোষে রূপ নেয়। এর মধ্যে শুক্রবারের সমাবেশকে সরকার জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং দেশের প্রতিরক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ অনলাইন ফর্ম পূরণ বা বিভিন্ন জনসমাবেশে অংশ নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গের স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪