প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বন্যায় বিচ্ছিন্ন চকরাজাপুর, মাচায় রাত কাটছে সাপের আতঙ্কে
||
বন্যায় বিচ্ছিন্ন চকরাজাপুর, মাচায় রাত কাটছে সাপের আতঙ্কেরাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন এখন চারদিকে পানিতে ঘেরা। মাঠ, পথঘাট ও ফসলের জমি তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার উপায় নেই। ১৫টি গ্রামের মধ্যে ১৩টিই পানিতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।বন্যার পানির সঙ্গে বেড়েছে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব। অনেক পরিবার ঘরের ভেতর মাচা তৈরি করে কোনো রকমে দিন-রাত পার করছে। বিশেষ করে রাত হলেই বাড়ছে আতঙ্ক—কখন ঘরের মাচা বেয়ে সাপ উঠে আসে, সেই ভয়ে অনেকের ঘুম নেই। এরই মধ্যে সাপের কামড়ে বীথি নামের ২৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, কেউ ঘরের মাচায় আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ গবাদিপশু নিয়ে তুলনামূলক উঁচু জায়গায় চলে গেছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, পানি না কমা পর্যন্ত চকরাজাপুরের মানুষের দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণ নেই। তবে গত সোমবার থেকে পানি আর বাড়েনি বলে জানান তিনি।বন্ধ ছয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানবন্যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাজীবনেও। চকরাজাপুর ইউনিয়নের নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টির পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কোনো বিদ্যালয় নদীভাঙনের কারণে সরিয়ে নিতে হয়েছে, কোনোটি বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার কয়েকটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, নদীভাঙনের কারণে চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আতারপাড়া ও ফতেপুর পলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পশ্চিম চর কালীদাসখালী, লক্ষ্মীনগর ও চর কালীদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।এ ছাড়া চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদানও বন্ধ রয়েছে। ফলে ইউনিয়নের মাত্র তিনটি বিদ্যালয়ে কোনোভাবে পাঠদান চলছে।কাজ নেই, চুলায় উঠছে না নিয়মিত হাঁড়িবন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান ক্ষেত্র ফসলের মাঠ। কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুরেরা। আয় না থাকায় অনেক পরিবারের চুলায় নিয়মিত হাঁড়ি উঠছে না।চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে তেমন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। তবে স্থানীয় এক আনসার কমান্ডার নিজ অর্থায়নে শতাধিক মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও ওষুধ বিতরণ করেছেন।দিনমজুর হাশেম আলী বলেন, ‘ত্রাণ পাওয়া বড় কথা নয়। কাজে ফিরে পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই।’গোখাদ্যের সংকটেও বিপাকে পশুপালকেরাবন্যায় গবাদিপশু পালনকারীরাও পড়েছেন বিপাকে। মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে খড়।স্থানীয় বাসিন্দা রাজা ব্যাপারী বলেন, ‘নিজের বসবাস ও খাবারের চেয়ে গরু-ছাগল রাখা এবং তাদের খাদ্য জোগাড় করাই বেশি বিপাকে ফেলেছে। মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট প্রকট। খড়ের দামও আকাশছোঁয়া।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার জানান, আতারপাড়া ও নিচ পলাশী গ্রামের পানিবন্দী শতাধিক পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বাকি গ্রামের কর্মহীন মানুষের মধ্যেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
পানি না কমায় চকরাজাপুরের মানুষের দুর্ভোগ কবে কাটবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পানিবন্দী মানুষের চাওয়া, দ্রুত পানি নেমে যাক এবং তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪