প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক সেনাদের সাক্ষ্য
||
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক সেনাদের সাক্ষ্যগাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ হত্যায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গোপন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ব্যবস্থা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে নতুন একটি প্রামাণ্যচিত্রে।‘নাজা’ নামের এই প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সদস্যের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর এটি পরিচালনা করেছেন।বৃহস্পতিবার ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী হয়। উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন লায়ন পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করা একমাত্র প্রামাণ্যচিত্র এটি।দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে চলচ্চিত্রটির নাম নেওয়া হয়েছে। সামরিক অভিযানে নিহত হওয়ার আশঙ্কা থাকা বেসামরিক মানুষদের বোঝাতে ওই শব্দটি ব্যবহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।চলচ্চিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গাজায় নজরদারি এবং দূর থেকে হামলা চালানোর বিভিন্ন পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী এমন এআইভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে হামাসের তুলনামূলক নিম্নপদস্থ সদস্যদের বড় পরিসরে শনাক্ত করা হতো।সাক্ষাৎকারদাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ব্যক্তিদের অনেকের বাড়িতে রাতের বেলায় হামলা চালানো হতো। এসব হামলায় ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও নিহত হতে পারেন—এমন আশঙ্কা জানা থাকার পরও হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করতে মোবাইল ফোন হ্যাক করার পাশাপাশি হামলার আগে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের কথোপকথন গোপনে শোনা হতো বলেও কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন।প্রামাণ্যচিত্রটিতে এমন কিছু এলাকার ধ্বংসের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী হামলার সময় প্রায় ২৫ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ ছাড়া বেসামরিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগের প্রত্যক্ষ বর্ণনাও রয়েছে।ভেনিসে সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম বলেন, নির্মাতারা সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রশ্ন করেছেন তারা কী করেছেন এবং ব্যবস্থাগুলো কীভাবে কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে শুধু প্রশ্ন করার মাধ্যমেই তারা এসব বিষয়ে উত্তর পেয়েছেন। কিছু সাক্ষাৎকারদাতা অনুশোচনা প্রকাশ করলেও কেউ কেউ নিজেদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উদাসীনতা কিংবা গর্ব প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।চলচ্চিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া কয়েকজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা এমন একটি গোপন ইউনিটে কাজ করেছেন, যেটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের ভাষ্য, ওই ইউনিটের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ‘শান্তিকে ব্যর্থ করা’।পরিচালকদের ভাষ্য, ‘নাজা’র উদ্দেশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন যুদ্ধাপরাধের ঘটনা তুলে ধরা নয়; বরং ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ হত্যার পেছনে থাকা আদেশ, নীতি, সামরিক চর্চা, ভাষা ও যুক্তি অনুসন্ধান করা। অর্থাৎ পুরো সামরিক ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে সেই ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠেন, সেটিই চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়।দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ‘নাজা’ নির্মাণের আগে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গাজা যুদ্ধ নিয়ে দ্য গার্ডিয়ান, +৯৭২ ম্যাগাজিন এবং হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম লোকাল কল একাধিক অনুসন্ধান প্রকাশ করে। এসব অনুসন্ধানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রামাণ্যচিত্রটির প্রদর্শন শেষে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দর্শকের করতালিতে হল মুখরিত ছিল। এ সময় কয়েকজন দর্শক ফিলিস্তিনি পতাকাও প্রদর্শন করেন।‘নাজা’ প্রযোজনা করেছেন জেমস উইলসন। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর নির্মাতা জোনাথন গ্লেজার।ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর এর আগে ‘নো আদার ল্যান্ড’ চলচ্চিত্রের চার সহ-পরিচালকের মধ্যে ছিলেন। ২০২৫ সালে চলচ্চিত্রটি সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে অস্কার জয় করে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪