প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝিনাইদহে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগ
||
ঝিনাইদহে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগঝিনাইদহে আমন ধানের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এরই মধ্যে আজ শনিবার সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার কিনতে যান স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।পরে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠলেও কৃষি বিভাগ ও বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে ডিলারেরা বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করছেন।তবে কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলার ও সাবডিলারদের পয়েন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে। সার নিতে গিয়ে ডিলারদের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অনেক ডিলার সার দিলেও বিভিন্নভাবে সময় ও আর্থিকভাবে হয়রানি করছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ।কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়ার সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু খোলা বাজারে তা ১ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ১ হাজার ৩৫০ টাকার এক বস্তা টিএসপি সার খোলা বাজারে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ১ হাজার ৫০ টাকার এক বস্তা ডিএপি সার ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও দামের কিছুটা তারতম্য রয়েছে।কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গুদামের ইনচার্জ অহিদুর রহমান বলেন, ইউরিয়া সারের মজুত, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। কালীগঞ্জের এই গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। আগস্ট মাসে ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন, এর ৮৯ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সাবডিলার পয়েন্টে গেলে এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দেওয়া হচ্ছে। সার নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অথচ বেশি টাকা দিলে খোলা বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ডিলারেরা গোপনে খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন।এ ধরনের অভিযোগের পর কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে মজুত করা সার উদ্ধার ও জরিমানা করেছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর গ্রামের কৃষক আসলাম হোসাইন বলেন, তিনি স্থানীয় ডিলার সোহরাব হাজীর কাছে এক বস্তা সার নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে পুরো বস্তা না দিয়ে ২০ কেজি ইউরিয়া দেওয়া হয়েছে।সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের কৃষক বকুল হোসেন বলেন, তাঁর ১৬ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ রয়েছে। গত শুক্রবার ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স মাহমুদ খাতুনের পয়েন্টে সার বিতরণ করা হয়। ওই দিন কাজে থাকায় তিনি সার নিতে যেতে পারেননি। পরদিন গেলে তাঁকে বলা হয়, তাঁর বরাদ্দের সার বিক্রি হয়ে গেছে। পরে প্রয়োজনীয় অন্তত ১০ বস্তার পরিবর্তে তাঁকে চার বস্তা সার দেওয়া হয়েছে।মালিয়াট গ্রামের কৃষক সুমন হোসেন বলেন, সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পাশের খুচরা দোকানে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর প্রয়োজন ৫০ কেজি হলেও অনুমোদিত ডিলার বা সাবডিলারের কাছ থেকে ২০ কেজির বেশি সার পাওয়া যাচ্ছে না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, একই ব্যক্তি যাতে বারবার সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সে জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। তবে কৃষকদের হয়রানির বিষয়টি বিবেচনা করে এখন ডিলারদের রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফলে সার নিতে কৃষকদের আর জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে হবে না। কেউ সার বিতরণে অনিয়ম করলে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। কৃষি বিভাগ বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তবে ডিলারদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আহসান উল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত আর টি এন নিউজ ২৪